আইসিইউতে বরিশাল মেডিকেলের চিকিৎসা ব্যাবস্থা!

Spread the love

সৈয়দ জুয়েল: নাগরিকের মৌলিক অধিকারের গুরত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে চিকিৎসা পাওয়া। সেই মৌলিক অধিকারে স্বার্থন্বেষীর থাবায় মুখ থুবড়ে পরছে বরিশাল শের-ই বাংলার চিকিৎসা ব্যাবস্থা। দখিনের মানুষের একমাত্র ভরসার এ কলেজ ও হাসপাতালটি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটে বলি হচ্ছেন সাধারন রোগীরা।

এর মাঝে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে হাসপাতালটিতে। এমনিতেই এ হাসপাতালটি নিয়ে অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। এর মাঝে চিকিৎসকদের ধর্মঘটে প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালটি কি সেবা না দিয়ে ব্যাবসার দিকে ঝুঁকছে?

চাহিদার তুলনায় চিকিৎসক রয়েছেন অর্ধেক, এর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হতে হয় কর্তৃপক্ষের। আর এই সুযোগ নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নানা অজুহাতে পান থেকে চুন খসলেই ডেকে বসে ধর্মঘট। যার খেসারত দিতে হয় গরীব, অসহায় রোগীদের।

অভিযোগ রয়েছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সাথে এ হাসপাতালের ডাক্তারদের মাঝে গড়ে উঠেছে এক সিন্ডিকেট। এ নিয়ে প্রায়ই দ্বন্দ্ব খোদ চিকিৎসকদের মাঝেই। একজনের ভাগে ভাগ বসাতে চায় অন্য চিকিৎসক। হাসপাতালের ভেতরে বাহিরে সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের হাতে অনেকটাই জিম্মি এখানে সেবা নিতে আসা রোগীরা। সেবার চেয়ে বাড়তি টু পাইস কামানোর দিকেই বেশি এ ঝোঁক হাসপাতালটির চিকিৎসকদের- এমনটিও ভাবছেন সচেতন মহল।

আজকের যারা ইন্টার্ন চিকিৎসক, আগামী দিনে তারাই বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশ্ন উঠেছে এখনই যদি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে অধিকতর গুরত্ব দিয়ে থাকেন, ভবিষ্যতে এ জাতীয় চিকিৎসক দিয়ে আমাদের জাতির স্বাস্থ্য কতটা নিরাপদ!


হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করে যে মানুষটি বিনা চিকিৎসায় মারা গেলন, তার দায়ভার কে নিবে? তার পরিবার দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের দূর্দশাকে অভিশাপ দিলে, তার দীর্ঘশ্বাসের অভিশপ্তের তীর্যক হাসি কি নীতি নির্ধারকদের পরিবারে পরবেনা? এমন প্রশ্ন রয়েই গেল জনতার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *