ধর্মঘটে দুর্ভোগ বাড়ছে শেবাচিম হাসপাতালে

Spread the love



নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট সোমবার তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত ছিল। তাদের ধর্মঘটের ফলে সেখানকার স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। হাসপাতালের আন্ত:বিভাগ এবং বহি:বিভাগে চিকিৎসা সেবা অনেকাংশেই বন্ধ। চিকিৎসক সংকটের কারনে বেড়েছে রোগীদের চরম দুর্ভোগ।

হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিষ্ট্রার ডা. মাসুদ খানের দায়ের করা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে তারা শনিবার বেলা ২টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন। মাসুদ খান তাকে মারধর করার অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোশিয়েসনের সভাপতি ডা: সজল পান্ডেসহ ১০ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন।
ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে শনিবার বেলা ২টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ডায়গণষ্টিক প্রতিষ্ঠানের কমিশনের টাকা ভাগবন্টন নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সোমবার তৃতীয় দিনের ধর্মঘটে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিকেলে সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের ছটফটানির দৃশ্য। মেডিসিন (মহিলা) বিভাগে ভর্তি রয়েছেন আঞ্জুমান আরা নামে এক গৃহবধু। হিজলা থেকে আসা ওই রোগীর স্বজন আকাশ হোসেন বলেন, তার স্ত্রী শারিরিক দুর্বলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছে শনিবার। সারা রাত কোন চিকিৎসক আসেনি একটু সেবা দিতে। সকালে একজন চিকিৎসক এসে জানান, পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে হবে বাহির থেকে।

নলছিটি থেকে আসা মজিবর রহমান নামে একজন বলেন, তিনি পাইলস এর সমস্যা নিয়ে ৩দিন ধরে ভর্তি। অপারেসনের কথা ছিল। কিন্তু ডাক্তারই নেই, কে অপারেশন করবেন। জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, দুরদুরন্ত থেকে নানা সমস্যা নিয়ে আসা রোগীরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম বলেন, ভর্তির সংখ্যা বাড়লেও অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে আসপাশের বেসরকারী ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক সেবিকা বলেন, গত ক’দিন ধরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা যেটুকো পাড়ছেন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন। কিন্তু রোগীর জন্য সার্বক্ষনিক ডাক্তার দরকার। চাইলেই তাদের (সেবিকা) পক্ষে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না।

বরিশাল শেবাচিম শাখা ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার সহ ৩ দফা দাবি মেনে নিলেই তারা কাজে যোগ দেবেন।

এব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো. বাকির হোসেন বলেন, রোগীদের জিম্মি করে ইর্ন্টানদের কর্মবিরতী যোক্তিক নয়। এজন্য রোগীদের কস্ট হচ্ছে। মানুষ যে কত কস্ট পাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বিষয়টি দ্রæত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, ১ হাজার শয্যার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে সোমবার রোগী ভর্তি ছিলো ১ হাজার ৪২৯জন। প্রায় ৫০০ চিকিৎসক পদের বিপরীতে এখানে কর্মরত চিকিৎসক আছেন মাত্র ৯০ জন। হাসপাতালে ১৯০জন ইর্ন্টান চিকিৎসক মূলত চিকিৎসার প্রাথমিক পর্ব সম্পন্ন করতেন। গত ৩দিন ধরে তারা না থাকায় হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *