নাগরিক রিপোর্ট: অক্টোবরের শেষে অতিবৃস্টির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেস্টা করছেন বরিশালের সবজি চাষীরা। পুরোদমে চলছে শীতের আগাম সবজি তোলা এবং নতুন করে আবাদের কার্যক্রম। বরিশাল কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছেন, অতিবৃস্টিতে ১০ ভাগ সবজির ক্ষতি হয়েছে। চাষীরা এখন ঘুরে দাড়াতে মাঠে ব্যস্ত সবজি চাষাবাদে। শীতের সবজির বাজার ধরাই তাদের টার্গেট। ক্ষতি কাটিয়ে রক্ষা পাওয়ায় ৮০ ভাগ আগাম সবজি বাজারে আশা শুরু করেছে। অবশ্য মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ফড়িয়াদের কারসাজিতে দাম না পাওয়ার হতাশা ব্যাক্ত করেছেন। জেলার ১০ উপজেলার ৫০০ হেক্টর জমিতে এবছর সবজি চাষ হয়েছে।
জানতে চাইলে বরিশাল কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো: তাওফিকুল আলম জানান, অক্টোবারের শেষভাগে অতি বর্ষনে ৫০০ হেক্টর জমির শীতের সবজির মধ্যে ৩৫০ হেক্টর আক্রান্ত হয়। কিন্তু এর মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ১০ ভাগ সবজির। ওই ক্ষতি কাটিয়ে এখন ঘুরে দাড়াচ্ছেন কৃষকরা। যারা উচুতে লাল শাক, লাউ, করল্লা করেছেন তাদের উৎপাদন ভাল হচ্ছে। টমেটো আসবে ক’দিন পরেই। বাবুগঞ্জের কৃষকরা টমেটো করেছে ভিটায়। মুলাও হয়েছে বেশ। তিনি বলেন, ক্ষতি কাটিয়ে ৯০ ভাগ আগাম শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু করেছে। তবে কৃষকরা ফড়িয়াদের কারসাজিতে পরে সবজির দাম পাচ্ছেন না। তাদের এজন্য বাজার সৃস্টি করে নিতে হবে। ঢাকায় নিরাপদ সবজি মার্কেট রয়েছে। বরিশাল নগরীর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সংলগ্ন চাষী লিটুর সবজি ক্ষেত থেকে বেপারিরা সরাসরি সবজি কেটে আনছে। দামও পাচ্ছে বেশ।
জেলার মুলাদী কৃষি সমিতির সাধারন সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, তার সংগঠনের চাষীরা লাল শাক, পালন শাক, টমেটো করেছিলেন। গত মাসের ভারি বর্ষনে মনে হয়েছিল সব শেষ। তবে পানি টেনে যাওয়ায় ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ শীতের সবজি রক্ষা হয়েছে। লাল শাক বাজারে বিক্রি করেছেন। টমেটোও ওঠার পথে। অবশ্য ন্যাজ্য দাম না পাওয়ায় হতাশ তিনি। সবজি চাষী কামরুল বলেন, তিনি আটি প্রতি লাল শাক ১২ টাকায় বিক্রি করেছেন ফড়িয়াদের তবে শহরে এর দাম ৩০ টাকা প্রতি আটি। পালন শাকও উঠছে। তবে দাম না পাওয়ার শংকায় তিনি।
বাবুগঞ্জের মোহনগঞ্জ বাজারে ফড়িয়াদের কাছে সবজি বিক্রি করতে আসা রাকুদিয়ার চাষী মোফাজ্জেল ফরাজি বলেন, এবার সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে অতিবৃস্টিতে আগাম শীতের সবজির। তবে ক্ষতি কাটিয়ে তিনি বেগুন, লালশাক আর ধনেপাতা বিক্রি শুরু করেছেন। চালকুমড়া, টমেটো ওঠার পথে। তবে নানা কারনে তারাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এর প্রধান কারন ন্যাজ্য দাম না পাওয়া।
একই উপজেলার চাঁদপাশার এক সময়ের লাভবান সবজি চাষী জসিম উদ্দিন বলেন, এখানকার সবজির কদর বরিশাল জুড়ে। কিন্তু দাম না পাওয়ায় তার মত অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, চাঁদপাশায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় মানকচু। এখানকার এক পিচ মাঝারী আকৃতির কচু কৃষক বিক্রি করেন ১৫০-২০০ টাকা। বরিশাল নগরীতে যার দাম ৩০০ টাকা। তিনি বলেন, লাকুটিয়া, বাবুরহাট, শার্ষি, মোগনগঞ্জ, রহমতপুর হাটে এসব সবজি প্রচুর ওঠে।
সদর উপজেলা চরকাউয়া এলাকার সবজি চাষী আ: রহমান বলেন, এবার বর্ষনের ক্ষতি কাটিয়ে লাউ, চাল কুমড়া, ঝিঙ্গে হয়েছে ভাল। তবে মধ্যস্বত্তভোগীদের কারসাজিতে দাম পাওয়া নিয়ে সংশয়ে তারা। স্বরুপকাঠীর আটঘর, বানারীপাড়ার একাধিক সবজি চাষী জানিয়েছেন, ক্ষতি কাটিয়ে তারা সবজি বাজারে পৌছানোর চেস্টায় ব্যস্ত।
অবশ্য মুলাদী উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেছেন, শীত আশায় কৃষকের সুদিন ফিরছে। সবজি বাজারে আসার পর্যায়ে পৌছায় চাষীরা আশাবাদী। একই ধরনের মতামত দিয়েছেন বানারীপাড়া, উজিরপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তারা।
কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জেলা সাধারন সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেন, সবজির দাম মাঠ পর্যায়ের চাষীরা যাতে পান এজন্য চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি নিয়ে আসতে হবে। কেন না মধ্যস্বত্ত ভোগীদের কারসাজিতে সাধারন কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও সবজির দাম পান না। তিনি বলেন, ঢাকার মত ‘নিরাপদ সবজি মার্কেট’ নগরীতে করা হলে চাষীরা দাম পাবেন।
এব্যপারে বরিশাল জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এ এস এম হাসান সরোয়ার শিবলি বলেন,
চাষীরা শীতের সবজি ওঠায় বিচ্ছিন্নভাবে তা বিক্রি করছেন। কৃষকের আপত্তি তারা দাম পান না। এজন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল যে একটি নির্দিস্ট স্থানে কৃষকের বাজার করে দেয়ার। কিন্তু তাতে আগ্রহ দেখায়নি জেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, এছাড়া উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা করে দিলে ক্রেতাই কৃষকের কাছে গিয়ে নির্দস্ট স্থান থেকে সবজি কিনতে পারবেন। তার ধারনা ফসলের দামের ৫০ ভাগ কৃষক পেলেই তারা লাভবান হবেন। কিন্তু তারা তা পাচ্ছেন না। তবে কৃষকেকেও আধুনিক হতে হবে।
