শিশু ধর্ষন ও হত্যার দায়ে বরিশালে একজনের ফাঁসি

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষনের পর হত্যার দায়ে আবুল কালাম আজাদ নামক এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ড প্রদান দেয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার আগে শিশুটিকে অপহরনের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং হত্যার পর লাশ গুম করার দায়ে ৭ বছরের কারদন্ড দেয়া হয়েছে।


নিহত শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দন্ডিত আবুল কালামকে। তার জমি বিক্রি করে ওই টাকা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ বৃহস্পতিবার উপরোক্ত রায় দেন। দন্ডিত আবুল কালাম আজাদ এসময় আদালতে উপস্থিত ছিল।


আবুল কালাম পেশায় ছিল ট্রাক শ্রমিক। তার বাড়ি বরিশাল নগরী সংলগ্ন কাশীপুর ইউনিয়নের গণপাড়া গ্রামে। নির্মমতার শিকার শিশুকন্যা সিমা আক্তার (৮) আবুল কালাম আজাদের প্রতিবেশী ছিল। ২০১৮ সালের ১১ মার্চ শিশুটি আবুল কালামের নির্মমতার শিকার হয়।


রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সীমার বাবা আব্দুল জব্বার ও মা মামলার বাদী মাহমুদা বেগম। তারা রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং ফাঁসির রায় দ্রæত কার্যকরের দাবী জানান।


বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বাচ্চু। তিনি মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, পূর্ব গণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সীমা আক্তার ঘটনার দিন (২০১৮ সালের ১১ মার্চ রোববার) বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সীমা প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বিদ্যালয়ের পাশে আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে যায়। এসময় আবুল কালাম বাসায় একা ছিল। সে সীমাকে পেয়ে মুখে তোয়ালে চেপে ধরে ধর্ষন করে।


সীমা এ ঘটনা তার বাবা-মাকে বলে দিবে বলে জানায়। এ কারনে আবুল কালাম সীমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। লাশ বস্তাবন্দী করে ঘটনারদিন রাতেই সীমাদের বাড়ির অদুরে জনৈক হালিম মাষ্টারের বাড়ির প্রবেশপথে কবরস্থানের মধ্যে ফেলে রেখে যায় ঘাতক আবুল কালাম।


পরদিন ১২ মার্চ স্থানীয়রা রশি দিয়ে বাঁধা বস্তা খুলে তার মধ্যে সীমার লাশ দেখতে পান। ঘটনাস্থল এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করায় ওই সময়ে পুলিশ আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে সীমাকে ধর্ষন ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।


একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম আজাদকে একমাত্র আসামী করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আদালতে ২০ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আবুল কালামকে উল্লেখিত দন্ডাদেশ দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *