পুলিশের লাঠিপেটায় ছত্রভঙ্গ ভাস্কর্যবিরোধী মিছিল

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক: পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ বের করেছেন একদল মুসল্লি। জুমার নামাজ শেষে তাঁরা এই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভে তাঁরা ভাস্কর্যবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন।পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের একটি অংশ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। আরেকটি অংশ মসজিদের সিঁড়ির ওপর অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের বিশেষ শাখার একজন সদস্য মুসল্লিদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। মিনিট পাঁচেক স্লোগান দেওয়ার পর একটি অংশ উত্তর গেট দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরে মসজিদের ভেতর অবস্থানকারী মুসল্লিরা ১০ মিনিটের মতো ভাস্কর্যবিরোধী এবং নাস্তিকদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে অবস্থানকারী মুসল্লিরা সড়কে বেরিয়ে আসেন। মসজিদের উত্তর পাশে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাঁরা পল্টনের দিকে মিছিল নিয়ে বের হন।বিক্ষোভ মিছিলটি পল্টন মোড়ে এলে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আজকের কর্মসূচিতে কোনো সংগঠনের ব্যানারে ছিল না। তবে বিক্ষোভকারী একজন মুসল্লির হাতে ‘বাতিলের আতংক বাংলার ভাগ ফয়জুল করিম মামুনুল হক’ লেখা একটা প্লাকার্ড ছিল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া খিলগাঁও এলাকার একজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, বিক্ষোভ করার জন্য এখানে এসেছেন। সারা দেশে ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে তাঁদের এই কর্মসূচি।

পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আগে থেকে অনুমতি ছাড়া যেকোনো কর্মসূচির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এরপরও জুমার নামাজ শেষে একদল মুসল্লি বিক্ষোভ মিছিল বের করেছেন। তাঁরা শাহবাগের দিকে যেতে চেয়েছেন। পুলিশ তাঁদেরকে পল্টন মোড়ে থামিয়ে দিয়েছে।

এর আগে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।

জুমার নামাজের আগে মতিঝিল জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত জুমার নামাজ শেষে একদল লোক ভাস্কর্যবিরোধী কর্মসূচির নামে সহিংসতার চেষ্টা করেছিলেন। ‌আজ তাঁরা অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কোনো কর্মসূচি করবেন না বলে কথা দিয়েছেন। তাঁদের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তাই অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, বায়তুল মোকাররমের আশপাশের এলাকায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *