নাগরিক রিপোর্ট: প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা বরিশালের মুলাদী। কিন্তু উন্নয়নের ছিটেফুটোও ছাপ নেই। ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট, অপরিকলিপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, সড়ক বাতি না থাকা, সৌচাগারের অভাবসহ জলাবদ্ধতায় নাকাল মুলাদী পৌরবাসী। যেকারনে উন্নয়ন প্রশ্নে এবার নতুন মেয়র দেখতে চান মুলাদী পৌরবাসী। কেবল জনগন নন, স্থানীয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও তাদের দুই বারের মেয়র সফিকুজ্জামান রুবেল এর বিকল্প প্রার্থী চান। এজন্য ইতোমধ্যে মুলাদীর ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী এক মঞ্চে উঠে পৌরবাসীর উন্নয়নে একাট্টা হয়েছেন। উন্নয়ন কাজের বঞ্চিত হওয়ায় পৌরসভার কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়ররাও এবার পরিবর্তনের দিকে ঝুকছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মুলাদী পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড পূর্ব বাজার এলাকায় পৌর আ’লীগের উদ্যোগে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আ’লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন হিরন হাওলাদারের সভাপতিত্বে ওই সভায় ৮ সহ¯্রাধিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় ক্ষমতাসীন আ’লীগের ৯জন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ১জন মোট ১০জন সম্ভাব্য প্রার্থী এক মঞ্চে উঠে মুলাদী পৌরসভার উন্নয়নে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী পরির্বতন চান।
এর হচ্ছেন- পৌর আ’লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন হিরন হাওলাদার, কৃষকলীগের সভাপতি হাজী আ: রব মুন্সি, আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সালেহ উদ্দিন হাওলাদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন বয়াতি, সাবেক সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান মিঠু, সাবেক যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, শ্রমিকলীগের আহবায়ক দিদারুল আহসান খান, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মো: আজিজ এবং ওয়াকার্সপার্টি সভাপতি (মার্কবাদী) সেলিম আহমেদ চৌকদার। প্রসঙ্গত, মুলাদীতে আ’লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি নেই এক বছর ধরে।
পৌর আ’লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন হিরন বলেন, কর্মী সভায় তারা ১০জন মেয়র প্রার্থী ঐক্যবদ্ধভাবে মত দিয়েছি। আমরা চাই বর্তমান মেয়রের পরিবর্তন। এই ১০জনের মধ্যে যে কোন একজনকে দল মনোনয়ন দিলে আমরা মেনে নিব। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, মুলাদীতে উন্নয়ন হয়নি ১০ বছর। পৌরবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত। বর্তমান মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল নিজে এবং তার ভাই ও স্বজনদের দিয়ে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ ভাগভাটোয়ারা করেছেন।
উন্নয়ন প্রশ্নে মুলাদীর আপমর জনগন চান পরিবর্তন। বর্তমান মেয়র নৌকার প্রতিক নিয়ে ২ বার মেয়র হলেও। দলের কোন কর্মসুচীতে অংশ নেন না। দলের সবাই তাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মেয়র এর উন্নয়নের জোয়ারে জনগন কাদা পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। আমরা পৌরবাসী এতো অবহেলিত। তার (মেয়র রুবেল) উন্নয়ন হয়েছে অনেক, কিন্তু জনগনের হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেলকে একাধিকবার ফোন (০১৭১৩০৪৪৪৭২) দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মুলাদী পৌরসভার ২ নং প্যানেল মেয়র মো: আলমগীর হোসেন বলেন, পৌরসভার প্রধান হচ্ছেন মেয়র। কিন্তু তিনি অধিকাংশ সময়েই থাকেন রাজধানীতে। এখানকার সরকারি উন্নয়ন বরাদ্ধ তার ব্যসায়ীক কাজে খাটায়। চাপা টেন্ডার দিয়ে কাজ নিজের লোককে পাইয়ে দেন। গত ৫ বছরে পৌরসভায় মাত্র একবার পরিষদের সভা হয়েছে। যেকারনে পৌরবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত। এসব নিয়ে পরিষদের সদস্যদের সাথেও মেয়র রুবেলের দ্বন্দ।
বরিশালের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: নুরুল আলম বলেছেন, তৃতীয় ধাপের পৌরসভা ভোটে মুলাদী পৌর ভোট হতে পারে। নতুন বছরের শুরুতে এসব পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
