নাগরিক রিপোর্ট: গৃহবধু ইয়াসমিন বেগম (২৫) প্রথম সন্তান প্রসব করবেন আর মাত্র ১০-১২ দিন পর। তবে তার বাড়িতে আনন্দ নেই। আছে শুধু কান্না। প্রথম সন্তানের মুখ দেখতে পারবেন না, এ দু:খে সারাক্ষন কান্নাকাটি করছেন অনাগত সন্তানের বাবা সোহাগ খান (৩২)। গত ৪ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষের হামলায় সোহাগ খানের দুটি চোঁখ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছেন।
সোহাগ খান বরিশাল নগরীর কীর্তণখোলার তীর সংলগ্ন মোহাম্মদপুর চরের বাসিন্দা। ফেরী করে ভাঙ্গারী সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের তিন সহোদর গত ৪ ডিসেম্বর সোহাগ খানের ওপর হামলা করে তার দুই চোখ নষ্ট করে দিয়েছে।
সোহাগের ভাই সুজন খান বলেন, চরের খাসজমি নিয়ে একই এলাকার মোবারক হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তাদের ৬/৭ বছর যাবত বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জের ধরে গত ৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার সময় নগরীর হাটখোলা হকার্স মার্কেটে সোহাগের ওপর হামলা চালায় মোবারকের ৩ পুত্র সাইফুল, আল আমিন ও রাব্বী। তারা মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে খুচিয়ে সোহাগের দুটি চোখ নষ্ট করে দিয়েছে।
সুজন খান জানান, আহতাবস্থায় উদ্ধার করে সোহাগ খানকে প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে এবং পরে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার দুটি চোখই চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরিশাল কোতোয়ালী থানা পুলিশ হামলাকারী সাইফুল ও আল আমিনকে গ্রেফতার করেছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
সুজন খান জানান, তার বড় ভাই মাসুম খান বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত দুজন ছাড়াও অপর হামলাকারী রাব্বী ও তার বড় ভাই নাজমুলকে আসামী করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এব্যপারে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম শুক্রবার জানান, ওই ঘটনায় একটি মারামারির মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
