নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের হিজলায় আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০জন। ভাংচুর করা হয়েছে প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল।
স্থানীয় সুত্র জানায়, এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের একপক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পংকজ নাথের সমর্থক ও আরেক পক্ষ এমপি বিরোধী। তারা দীর্ঘদিন যাবত মুখোমুখি অবস্থানে এবং দলীয় কর্মসূচীও পালন করেন পৃথকভাবে। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে মঙ্গলবার রাতে আবারো সংঘর্ষ হয় দুইপক্ষের মধ্যে। মঙ্গলবার সন্ধার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এমপির সমর্থকরা কলেজের গেটে এবং এমপি বিরোধীরা ডাকবাংলোর সামনে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। গভীর রাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে হটিয়ে দেয়।
এমপি পংকজ নাথ গ্রুপের নেতা হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত ঢালী জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভপতি সোলায়মান হাসান ও যুগ্ন সম্পাদক নাইম হাসান মঙ্গলবার সন্ধার দিকে মোটরসাইকেলে আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত এমপি বিরোধীরা দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বেদম মারধর করেছে। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। বেলায়েত ঢালী দাবী করেন এসময় এমপি বিরোধীরা একাধিক পটকার বিস্ফোরন ঘটিয়েছে।
অপরদিকে এমপি বিরোধী গ্রুপের নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার বলেন, তারা দলীয় কার্যালয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুুতি সভা করছিলেন। এসময় সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ সভাপতি সোলায়মান ও যুগ্ন সম্পাদক নাইম। এতে এমপি বিরোধী কর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপরই এমপি সমর্থকরা দফায় দফায় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা চালালে তারা (এমপি বিরোধী) প্রতিরোধ করেছেন।
টিপু সিকদার অভিযোগ করেন, রাত ১১টার দিকে এমপি পক্ষের হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে তারা (এমপি বিরোধী) দলীয় কার্যালয় ত্যাগের প্রস্তুুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় হিজলা থানার ওসি অসীম কুমার সিকদারের নেতৃত্বে পুলিশ এসে তাদের ওপর বেধরক লাঠিচার্জ করেছে। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেনসহ অনেককর্মী আহত হন।
সংঘর্ষ থামাতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যান সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. মতিউর রহমান। তিনি বলেন, দুইপক্ষই ব্যাপক ইটপাটকেল বিনিময় করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। তখন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এলাকা ত্যাগে বাধ্য করার জন্য দুইপক্ষের দিকেই লাঠিচার্জ করেছে। সাবেক চেয়ারম্যান টিপু সিকদারের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান সহকারী পুলিশ সুপার।##
২০২০-১২-১৬
