নাগরিক রিপোর্ট: বিদেশ যাওয়ার জন্য কাতার প্রবাসী সহিদুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন আব্দুল খালেক। তাকে বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হন সাবিনা ইয়াসমিন। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সাবিনা ইয়াসমিনকে হত্যা করেছে আব্দুল খালেক। এ হত্যাকান্ডের ৩৫ দিন পর আব্দুল খালেক গ্রেফতার হলে তিনি সাবিনা ইয়াসমিন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার হিজলতলা এলাকা থেকে আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার বেলা ১১টা নগরীর রূপাতলীতে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার হুমায়ন কবীর। তিনি জানান, আব্দুল খালেককে গৌরনদী থানায় হস্তান্তরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আসামী আব্দুল খালেকের স্বীকারোক্তীর বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদেশ যেতে ব্যার্থ হয়ে টাকা ফেরত চান তিনি। কিন্তু টাকা ফেরত না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২০ নভেম্বর তিনি সাবিনা ইয়াসমিনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বরিশাল নগরীর কাশিপুরের একটি বাসায় ডেকে আনেন। ওই বাসায় কেয়ারটেকার হিসাবে থাকতেন আব্দুল খালেক। সেখানে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে সাবিনাকে হত্যা করা হয়। পরে মৃতদেহটি একটি ড্রামে ভরে যাত্রীবাহি বাসে তুলে গৌরনদীর দিকে যান। গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসষ্টান্ডে পৌছার পর ভ্যানগাড়ি আনার কথা বলে বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান আব্দুল খালেক।
প্রসঙ্গত, গত ২০ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে ভুরঘাটা বাসষ্টান্ডে একটি যাত্রীবাহি বাসের ড্রামের মধ্যে বোরকা পরিহিত সাবিনা ইয়াসমিন নামক নারীর লাশ পাওয়া যায়। ওই বাসটি বরিশাল থেকে ভুরঘাটা যাওয়ার পথে নগরীর কাশীপুর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সামনে থেকে ড্রামসহ ওঠে আব্দুল খালেক। তখন তিনি বাসের কর্মচারীদের বলেছিলেন ড্রামের মধ্যে কাঁচের মালামাল আছে। নিহত সাবিনা দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী সহিদূল ইসলাম কাতার থাকেন। এ দম্পতি বিদেশে লোকপাঠানোর ব্যবসা করতেন। তাদের বাড়ি গৌরনদী পৌরশহরের দিয়াশুর এলাকায়।
