সৈয়দ জুয়েল: যে মৃত্যু, আক্রান্তের ভয় দিয়ে শুরু হয়েছিলো ২০২০। সে ভয় এখনো ছাড়েনি মানুষের। এখনো করোনা তার গতিবিধি পাল্টে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে- স্বাভাবিক জীবনের চলার পথকে। আদৌ ২০২১-এ পৃথিবী কি ফিরবে তার পুরানো ছন্দে! প্রিয়জন হারানোর বেদনার চেয়ে, করোনায় মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ে কফিন বন্দী করে চিরনিদ্রায় শায়িত করার- অস্পস্ট চাপা আর্তনাদের যন্ত্রনা প্রিয় মানুষেরা বয়ে বেড়াবে আমৃত্যু। সুস্থ মানুষরাও পা ফেলে অতি সতর্কতায়, না যানি ছোঁয়া লাগে অদেখা ভাইরাসের।
এক ভাইরাসের আগমনে কত কিছুই না পরিবর্তন হলো, কিন্তু এ থেকে শিক্ষা আমরা কতটুকু নিতে পারলাম! এতটুকু কি কমেছে–হিংসা, বিদ্বেষ, খুন, ধর্ষন, দূর্নীতি! মানবিকতার কি উন্নতি না অবক্ষয় ঘটেছে আমাদের! যদি নিজের এতটুকু পরিবর্তন না হয়ে থাকে,তাহলে এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু হলেও যে আমাদের চরিত্রের পরিবর্তন হবে, সে আশা ক্ষীন।
তারপরও আমরা যেহেতু সুন্দর কিছু স্বপ্ন আর আশা নিয়ে বেঁচে থাকি, তাই স্বপ্নের জাল বুনতে ক্ষতি কি! ক্রিকেটের অনেক ম্যাচ যেমন ‘যদি’র উপরে ছেরে আমরা তৃপ্ত হই- যদি রান আউট না হত, যদি ক্যাচটি ধরা যেত, যদি আর উইকেট না পরতো, সেরকম- ‘যদি’ দূ্র্নীতিবাজরা সৎ হয়ে যায়, যদি রাজনীতিটা ভাল হত, যদি যার দায়িত্বটা সে সফলতার সাথে পালন করতো, যদি চিকিৎসা ব্যাবস্থাটা ভাল হত!
সামনের ২০২১- এ এই যদিগুলো যদি সত্যি হয়ে ধরা দেয়, তাহলে তো বলাই যায়- সুখের বার্তা নিয়েই আসবে ২০২১। না হয় শুধু সংখ্যাই পরিবর্তন হবে, স্বপ্নরা শুধু অধরাই থেকে যাবে।
আমাদের সীমাবদ্ধতার অন্ত নেই, তারপরও একে অপরের প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, আর মনুষ্যত্বের বোঝাপড়ার সমন্বয় করতে পারলে অনেক সমস্যাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। শুধু সরকারের কাঁধে বন্দুক রেখে ব্যার্থতার দায়ভারে পর্যুদস্ত করে নিজেকে মহামানুষ না ভেবে- নিজের দায়িত্বটুকু পালন করছি কি না সেদিকে নজর দিলে উন্নত জাতি গঠন দ্রুত হবে, আর একটি উন্নত জাতি-ই পারে উন্নত দেশ উপহার দিতে।
স্বাধীনতার এত বছর পরও এখনো গরীব,অসহায় মানুষরা রাস্তা,রেল স্টেশনে রাত কাটায়। ক্ষুধার্থ আর গৃহহীন মানুষদের কাছে স্বাধীনতার সুফল কি আমরা পৌছাতে পেরেছি? একজন নারী শিশুরও রাস্তায় একা হাঁটা নিরাপদ নয়, ধর্ষন মুক্ত একটি পবিত্র রাস্তা কি তাদের জন্য তৈরি করতে পেরেছি!
২০২১ হতে পারেনা নিজেকে পরিবর্তনের বছর! একটি সুন্দর হাসির জন্য যে জাতি যুদ্ধ করতে জানে, সে জাতি একটু স্বদিচ্ছা তৈরিতে কার্পন্য করবে, বিশ্বাস হয়না। নতুন বছরের সুখের বানী যেন চার দেয়ালের মাঝে লাল সূঁতোয় বন্দী না থাকে, এ বানী যেন ছড়িয়ে পরে প্রতিটি মানুষের হ্রদয়ের দায়িত্ববোধের জানালা থেকে।
