নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীসহ জেলার ১০ উপজেলার ৭১টি ইউনিটে কমিটি ঘোষনা দিয়েছে সংগঠনটি। রাতেই কলেজ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের বঞ্চিতরা গন পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ ঘোষিত কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ীকে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। যেকারনে ত্যাগী নেতারা কাংখিত পদ থেকে ছিটকে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল বিভাগীয় টিমের প্রধান ও কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পি বলেন, ঘোষিত কমিটিতে পদ পাওয়াদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার কোন প্রমান নেই। তারা কারো পদত্যাগপত্রও পাননি। তিনি বলেন, আশা পুরন যাদের হয়নি তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতেই পারে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আওতাধীন ৯টি কলেজ ও ২৬টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষনা হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভাগীয় টিমের হস্তক্ষেপে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু কমিটি ঘোষনার পরপ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে গন পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছে অনেক ইউনিট।
সদ্য ঘোষিত সরকারী বিএম কলেজে ছাত্রদলের আহবায়ক মো: মাজহারুল ইসলাম বাবু নিয়মিত ছাত্র নন বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির যুগ্ন আহবায়ক মো: ইলিয়াছ তালুকদার। তিনি বলেন, নতুন কমিটিতে যোগ্যদের মুল্যায়ন হয়নি। আহবায়ক বাবুকে বিএম কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতিতে কখনওই দেখা যায়নি। এ অবস্থায় তিনিসহ অনেকেই পদত্যাগের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষনা দিয়েছেন। মো: বাবর হোসেন খালেদ নামে অপর এক যুগ্ন আহবায়ক বলেন, দল অবিচার করেছে তার সাথে। এ কমিটি মানেন না, তাই তারা ৭জন পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন।
বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নবগঠিত কমিটির আহবায়ক ফয়সালুর রহমান ইমন খান সেখানকার ছাত্র নন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কমিটির ১ নং যুগ্ন আহবায়ক জোবায়ের হোসেন জুয়েল বলেন, ২১ সদস্য বিশিস্ট কমিটির ১০জনই তারা পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। কেননা আহবায়ক ছাত্র নন, সদস্য সচিব ছাত্রলীগের সাথে রাজনীতি করেছে।
সরকারি বরিশাল কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম টিপুকে। অভিযোগ উঠেছে তার ছাত্রত্ব নেই এবং সে চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী।
জানতে চাইলে মহানর ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বিএম কলেজ, পলিটেকনিকসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড কমিটিতে স্বাক্ষর দেননি। এরপরও তার মতামত ছাড়া কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। যেকারনে নগরীর ৩নং, ১১ নং, ১৯ নং, ২১নং, ২৬ নং, ২৭ নং ওয়ার্ডের কমিটিতে বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছে। বিএম কলেজ, পলিটেকনিকে যোগ্যরা মুল্যায়তি হননি। ফলে অনেক ইউনিট থেকে নেতারা পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন।
এদিকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের ১০ উপজেলায় মোট ৩৬টি ইউনিটের কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ উপজেলা, ৭ পৌরসভা ও ১৯ কলেজ কমিটি।
জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রাঢ়ী বলেন, অছাত্র, বিবাহিত, মাদক মামলার আসামীরাই নতুন কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে। উদাহরন হিসেবে তিনি বলেন, সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক করা হয়েছে আব্দুল কাদের নামে একজনকে। তাকে সদর উপজেলার সাথে গত ১০ বছরে সম্পৃক্ত দেখা যায়নি। আগৈলঝাড়ায় আহবায়ক হয়েছেন মাদক মামলার আসামী মহিদুল। এ উপজেলার ১৩জন নেতা শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন।
মেহেন্দীগঞ্জে ৪ বারের চেষ্টায় এসএসসি পাশ করছে এমন কর্মী সাহাদাত হোসেন সোহাগকে আহবায়ক করা হয়েছে। হিজলায় সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে মানোসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে ভাতা পাওয়া সাইদুর রহমান সোহাগকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। মুলাদীতে ২০১২ সালের নবীন কর্মী ও ছাত্রত্ব না থাকা মহিউদ্দিন ঢালীকে আহবায়ক করা হয়েছে। এতে নবগঠিত কমিটিতে পদ নিয়ে বানিজ্য স্পস্ট হয়েছে।
বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ কমিটি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, মাঠ পর্যায়ে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে রাখা হয়নি।
এব্যপারে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব ও নগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন তিনি স্থানীয় বিএনপির মতামত নিয়ে কমিটিগুলো করার উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা স্বাধীনভাবে কমিটি করতে গিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা মসজিদে উঠিয়ে শপথ পড়িয়েছেন, টাকা পয়সা নিয়ে পদ দিয়েছেন। যেকারনে বিএম কলেজ, পলিটেকনিক সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও উপজেলায় যারা দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের স্থান হয়নি।
