বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরীর সম্পত্তি রক্ষায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালে ১৬০ বছরের পুরানো পাবলিক লাইব্রেরীর অচলাবস্থা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে অনুষ্ঠিত সভা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাবলিক লাইব্রেরীর জমির একাংশ লাইব্রেরীর মালিকানাধীন থাকবে না- এ নিয়ে সৃষ্ঠ জটিলতা নিরসনের উপায় খুঁজতে সোমবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এদিকে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হওয়া পাবলিক লাইব্রেরীর সম্পত্তি রক্ষার দাবীতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শিক্ষকনেতৃবৃন্দ। কলেজ শিক্ষক সমিতি বরিশাল আঞ্চলিক শাখা সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, পাবলিক লাইব্রেরীর এক ইঞ্চি জমিও অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

পদাধিকারবলে পাবলিক লাইব্রেরী ও কালেক্টরেট স্কুলের সভাপতি জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার তার সভাকক্ষে সোমবার সভা আহবান করেছিলেন। বরিশালের বিভিন্ন শ্যেনীপেশার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহন করে তাদের নানা মতামত দেন।

পাবলিক লাইব্রেরী ভবনের পেছনের জলাশয় ভরাট করে নির্মাধীন কালেক্টরেট স্কুল ভবনের বর্ধিত অংশ নির্মানের দাবীর পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন সভায় অংশগ্রহনকরারীরা। প্রায় সকলে মত দিয়েছেন, বিদ্যালয়কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহি পাবলিক লাইব্রেরীটি যেন ধ্বংস করা না হয়। বক্তারা পাবলিক লাইব্রেরীর অচলবস্থা দুর করে সেখানে পাঠক আসার পরিবেশ তৈরীর দাবী জানান।

সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মানবেন্দ্র ব্যটবল, পাবলিক লাইব্রেরীর এডহক কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতিক) সহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
সকলের মতামত দেয়ার পর জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, তিনি বরিশালের সকল শ্রেণীর মানুষের মতামত নিয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কারো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হবে না। পাবলিক লাইব্রেরী ও কালেক্টরেট স্কুলের ভবন নির্মান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারাই সমাধানের উপায় খুজে বের করে দিবেন।

এদিকে পাবলিক লাইব্রেরীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাসহ এর সম্পত্তি রক্ষার দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা গ্রীন মুভমেন্ট এর সমন্বয়ক কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ সোমবার ফেসবুকে উল্লেখ করেন, বরিশালে পাবলিক লাইব্রেরী বৃহত্তম বাংলার প্রাচীনতম লাইব্রেরী। এটা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের গৌরব। পাবলিক লাইব্রেরী বাঁচাতে প্রশাসনসহ সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ। কাজী বশির আহমেদ নামে একজন লেখেন- ‘ওটা চালু হলে তো মাদকের কারবার চলবে না।’ টুনু কর্মকার নামে একজন শিক্ষিকা লেখেছেন- ‘পাবলিক লাইব্রেরী আমাদের জীবনী শক্তি। এটি নিয়মনীতি অনুসরন করে চলবে এটাই প্রত্যাশা।’ উন্নয়ন সংগঠক আনোয়ার জাহিদ লেখেন- ‘পাবলিক লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য হয়েও কোন সাধারন সভা হয়েছে কিনা জানা নেই।’

কলেজ শিক্ষক সমিতি বরিশাল আঞ্চলিক শাখা এক বিবৃতিতে বলেন, পাবলিক লাইব্রেরী সৌর্ন্দয্যময় করতে শিক্ষক সমাজ জেলা প্রশাসনের পাশে থাকবে। কিন্ত পাবলিক লাইব্রেরীর জমি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে দেয়া হলে প্রতিরোধ করা হবে।

প্রসঙ্গত, নগরীর বান্দ রোডে পাবলিক লাইব্রেরীর ভবনের দক্ষিণ পাশ্বে কালেক্টরেট স্কুলের নতুন ভবন নির্মিত হবে। লাইব্রেরী ভবনের পেছনে অব্যবহৃত জমিতে স্কুল ভবনের বর্ধিত অংশ করার জন্য গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে লাইব্রেরীর দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় সকল মহলে। ১৮৫৪ সালে নির্মিত বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরীটি তদারকির অভাবে ২০০৪ সালে থেকে অচলবস্থা চলছে। এ নিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর ‘বন্ধের পথে বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরী’ শিরোনামে একটি সংবাদ দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *