পাথরঘাটায় আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: পৌর নির্বাচনে বরগুনার পাথরঘাটায় আওয়ামীলীগ মনোনীত ও স্বতন্ত্র (আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী) মেয়র প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে মঙ্গলবার রক্তক্ষায়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) অব্যাহত রয়েছে।

সংঘর্ষে পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। পুলিশ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী উপজেলা শ্রমিকলীগের বহিস্কৃত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করার পর তার সন্ধ্যায় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর করেছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫০টি টিয়ার গ্যাস সেল নিক্ষেপ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (নারিকেল গাছ) বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে গণসংযোগের এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় অতিক্রমকালে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। এরপরে উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা পাল্টা করেছে। মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে বিপুল সংখক নারীকে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যমতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পৌরশহরের তালতলা বাজার থেকে গণসংযোগ শুরু করে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে পৌছেন। তার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ছিল। এসময় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে থাকা কর্মীরা মোস্তাফিজুর রহমানের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। আকস্মিক হামলায় মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিরোধে টিকতে না পেরে দৌড়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে যান। প্রায় ১৫ মিনিট পর শতাধিক নারীসহ কয়েকশ কর্মী সমর্থক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটাসহ মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের দিকে ছুটে যান। আওয়ামীলীগের কর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিনসহ ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ওসি শাহাবুদ্দিনকে বরিশাল মেডিকেলে এবং অন্যদের পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও।

পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিন জানানা, বিকালে দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে টিয়ার সেলের ৫০টি সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে।

এদিকে বিকালে সংঘর্ষ থামলেও সন্ধ্যার পর ফের উত্তপ্ত হয়েছে পাথরঘাটা পৌর শহর। নৌকা প্রতীকের কর্মীরা সন্ধ্যার দিকে পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে মৎস্য শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এ সংগঠনের সভাপতি। এরপরই মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে বসতঘরগুলোতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় নৌকার কর্মীরা।

হামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, বিকালে ঘটনার সময় তিনি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কর্মীসভায় ছিলেন। তিনি দাবী করেন, প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সন্ত্রাস করার জন্য বরগুনাসহ পাশের জেলা পিরোজপুর ও বাগেরহাট থেকে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত এনে পাথরঘাটায় জড়ো করেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি মঙ্গলবার বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় মোস্তাফিজুর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে হামলা করেছে।

মোস্তাফিজুর রহমানে পিতা নুরুল হক বলেন, তার ছেলে গণসংযোগে বের হলে আওয়ামীলীগ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা মোস্তাফিজকে পিটিয়ে জখম ও বসতবাড়িতে ভাংচুর করেছে।

সন্ধ্যা ৭টায় পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক সাইদ আহমেদ গ্রেফতারে বিষয়টি নিশ্চিত না করে বলেন, মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান অসুস্থ। তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এব্যপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, রিটানিং কর্মকর্তা হিসাবে পুরো ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *