নাগরিক রিপোর্ট:
তৃতীয় ধাপে বরিশালের গৌরনদী ও মেহেন্দীগঞ্জে পৌর নির্বাচন শনিবার। বৃহস্পতিবার প্রচারনাও শেষ করেছে প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনের আগ মুহুর্তে গৌরনদীতে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে বাধা ও পোস্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ তুলে নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন বিএনপি প্রার্থী। ওই পৌর এলাকায় ইতোমধ্যে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘাতও দেখা দিয়েছে।
অপরদিকে মেঘনা পাড়ের মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নিস্ক্রিয়তার সুযোগে নৌকার প্রার্থী অনেকটা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে। অবশ্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।
গৌরনদীতে ছাত্রদলের এক নেতাকে মারধর ও ধানের শীষ প্রতিকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান অভিযোগ করেন, তার প্রচারের মাইক টরকী বন্দরে ঢুকতে দেয়নি নৌকার সমর্থকরা।
এমনকি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ঝুলিয়ে আসলে তা ছিঁড়ে ফেলছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। বুধবার টরকী বন্দরে উপজেলা ছাত্রদল নেতা খান মোহাম্মদ আরিফকে পেয়ে তাকে মারধর করেছে কতিপয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ অবস্থায় ভোট সুষ্ঠ হবে কিনা তা নিয়ে শংকিত বিএনপি প্রার্থী হান্নান শরিফ। এসব ঘটনা জানিয়ে তিনি বুধবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী মো: হারিছুর রহমান গৌরনদী পাইলট স্কুল মাঠে উঠান বৈঠকে সাংবাদিকদের কাছে এধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বরং বিএনপি ভোট সুষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে গৌরনদীতে বুধবার দিবাগত রাতে ৪নং ওয়ার্ডের উটপাখি প্রতিকের কাউন্সিলর প্রার্থী লিটন বেপারীর বাড়িতে হামলা ও তার নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ টেবিল লাইট মার্কার প্রার্থীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী লিটন বেপারীর স্ত্রী বাদি হয়ে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতবার সকালে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এর আগে গৌরনদী পৌর নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা, পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩টি মোটর সাইকেল ও বসত বাড়ি ভাংচুর এবং উভয় পক্ষের ৫ সমর্থক আহত হয়েছে। এ সময় ২টি ককটেল বিষ্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ দিয়াশুর এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী ইখতিয়ার হাওলাদার ও আলামিন হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
গত ১৯ জানুয়ারী গৌরনদীর ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উটপাখি মার্কার প্রার্থী খাইরুল খান ও ডালিম মার্কার প্রার্থী আ: হাকিম খানের সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় প্রার্থীর ৬ নারী সমর্থকসহ ১২ জন সমর্থক আহত হয়েছে। পরদিন দুপুরে পৌরসভার বড় কসবা ও টরকীর চর এলাকায় এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসব প্রসঙ্গে গৌরনদী পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘাত রোধে আইনশৃংখলাবাহিনী মাছে রয়েছে।
এদিকে মেঘনা পাড়ের মেহেন্দিগঞ্জ পৌর এলাকায় এ পর্যন্ত বড় কোন নির্বাচনী সংহিসতা হয়নি। সেখানে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও সমানভাবে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছেন। গত ১৮ জানুয়ারী এক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক আফসার সিকদার (৫৫) প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হলে পরদিন ২০ জানুয়ারী তিনি মৃত্যুবরন করেন। এ ঘটনায় ২০ জানুয়ারী বিক্ষোভ মিছিল করা ছাড়া বড় ধরনের কোন প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়নি।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের শেষ মুহুর্তেও বিএনপি প্রার্থী জিয়াউদ্দিন সুজনের চোখে পড়ার মত তৎপরতা নেই। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় কোন নেতাকেও ভোটের মাঠে দেখা যায়নি। অপরদিকে আ’লীগের মেয়র প্রার্থী কামাল উদ্দিন খানের পক্ষে উৎসবের আমেজে সরব দলের নেতাকর্মীরা।
