নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তণখোলা নদীর পানি বুড়িগঙ্গার মতো দুষিত ও মৃতপ্রায় হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ বছর আগে গড়ে ওঠা নগরীর ৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান এজন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তরল রাসয়নিক বর্জ্য নির্গমনের মাধ্যমে নদীর পানি দূষনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ওষুধ কোম্পানী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপিও অকর্যাকর। মঙ্গলবার বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
বরিশাল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এ কর্মশালার আয়োজন করে। বরিশালের শিল্প দুষন: পরিবেশ বিপর্যয় ও জনদূর্ভোগ নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এ সভায় বিভিন্ন নাগরিক ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশগ্রহন করেন।
দুষনকারী ওই ৮ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে গেøাবাল ক্যাপসুল লিমিটিডে, কেমিস্ট ল্যাব:, অপসোনিন ফার্মা, রেফকো ল্যাব, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, সামিট বরিশাল পাওয়ার লি:, মেডিমেট ফার্মা ও অপসোনিন বাল্ক লি:।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশল বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার। সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংগঠক রনজিৎ দত্ত। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন।
বক্তারা দীর্ঘ কয়েকদশক চেষ্টার পরও ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলো নগরীর বাইরে স্থানান্তর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যেগে গাফেলতি থাকায় ওষুধ প্রস্তুুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নগরীর বাইরে স্থানান্তর হচ্ছে না। তারা কয়েক দশক যাবত শুধুমাত্র কারাখানা কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেয়ার মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সিমাবদ্ধ রেখেছেন। আজ পর্যন্ত কোন আইনী পদক্ষেপ নেননি। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কারাখানা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে রহস্যজনকভাবে বন্ধ থাকা ইটিপিগুলো চালু হয়ে যায়।
এসব কারনে পরিবেশ অধিদপ্তরে স্থানীয় কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুুলি দেখিয়ে গেøাবাল ক্যাপসুল নামক একটি প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানায় ইটিপি স্থাপন করেনি। সভায় আমন্ত্রন করা হলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষযে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার বলেন, সভায় উঠা অভিযোগগুলো তিনি খতিয়ে দেখবেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরে সচেষ্ট হবেন।
সভার প্রধান অতিথি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ আইন কার্যকর করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যেকোন পদক্ষেপে বরিশাল জেলা প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগীতা দেবে। তিনি এসব দুষনকারী প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানান।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন নদী খাল বাচাঁও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু, সবুজ আন্দোলন এর বরিশালের সমন্বয়ক কাজী মিজানুর রহমান, সুজন এর নগর সভাপতি আ: মোতালেব হাওলাদার, সনাক এর সাবেক সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক প্রমূখ।

