নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকা মুলাদীর নাজিরপুর ইউনিয়নে মানসিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি নিঁখোজ হওয়ার প্রায় একমাস পর তার হাত-পা বাঁধা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকে নিঁখোজ ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, মানসিক ভারস্যম্যহীন মনির সিকদারকে (৪০) নির্যাতনে করে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
মনির সিকদার নাজিরপুর ইউনিয়নের সীমানা সংলগ্ন মাদারীপুর জেলার কালকীনি উপজেলার কায়েরিয়া গ্রামের মৃত নুর মোহম্মদের ছেলে। নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপুল গ্রামের পলি আকতার (৩৫) নামক এক নারীকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো মনির।
পলি আকতার স্বামী মনির নিঁখোজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে গত ২৬ জানুয়ারী মুলাদী থানায় সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ জানুয়ারী বেলা ১১টায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি মনির। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পলি আকতারের ভাই ফজলুর রহমান জানান, ২০০১ সালে তার বোন পলির সঙ্গে মনিরের বিয়ে হয়। ৭/৮ বছর আগে পুরোপুরি মানসিক ভারস্যম্যহীন হয়ে পড়ে। এর আগেও সে সামান্য মানসিক রোগী ছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মনির শ্বশুর বাড়িতে থাকতো।
ফজলুর রহমান আরো বলেন, মনির প্রতিদিনই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে রাতের মধ্যে বাড়ি ফিরতেন। ঘটনার দিন (১২ জানুয়ারী) তিনি বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।
পরে তারা জানতে পেরেছেন একই ইউনিয়নের বাণীমর্দন গ্রামে আবুল হোসেনের বাড়িতে ঢুকলে তাকে চোর সন্দেহে আটকের পর হাত-পা বেঁধে বেদম মারধর করা হয়েছে। এ খবর জানার পর আবুল হোসেনের বাড়িতে গেলে তারা জানিয়েছেন, মনিরের পরিচয় জানার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরপর কোথায় গেছেন তা আবুল হোসেনরা জানেনা।
স্ত্রী পলি আক্তার বলেন, ৩/৪ দিন আগে স্বামীর হাত-পা বাঁধা একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তাদের ধারনা আবুল হোসেনের বাড়িতে নির্যাতনে মনিরের মৃত্যুর পর তার লাশ গুম করা হয়েছে। সোমবার বিকালে পলি আক্তার বলেন, বাণীমর্দন গ্রামের বিভিন্ন স্থানে স্বামীর খোঁজ করছেন তিনি।
পলি আক্তারের জিডির তদন্ত করছেন মুলাদী থানার উপ পরিদর্শক (এস.আই) কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি মনির নিঁখোজ হওয়ার আরও কয়েকদিন আগের। এর সঙ্গে নিঁখোজের কোন সম্পর্ক নেই। মানসিক ভারসম্যহীন হওয়ায় তিনি প্রায়ই গ্রামের বিভিন্ন জনের ঘরে ঢুকে পড়লে এভাবে মারধরের শিকার হতেন।
তবে বাণীমর্দন গ্রামের বাসিন্দা ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর সাইদুল আলম বলেন, ফেসবুকে ছড়ানো ছবিটি ১২ জানুয়ারী রাতের (যেদিন মনির নিঁখোজ হন)। সাইদুল বলেন, ওই রাতে মনির ভ্যানচালক আবুল হোসেনের ঘরে ঢুকে পানি খেতে চায়। একপর্যায়ে সে আবুল হোসেন ও তার ছেলেকে মারধর করে। পরে বাড়ির অন্যান্য লোকজন চোর সন্দেহে মনিরকে মারধর করার পর হাত-পা বেঁধে গ্রামের জয়বাংলা বাজারে নিয়ে আসে। সেখানে উপস্থিত অন্যান্য লোকজন মনিরকে চিনতে পারলে সকলের উপস্থিতিতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মেম্বর সাইদুল বলেন, গ্রামের লোকজন পরদিন ইউনিয়নের চিলমারি এলাকায় এবং এর পরের দিন কুতুবপুরে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন।
