নাগরিক রিপোর্ট:
ঐতিহ্যবাহী বরিশাল বিএম কলেজের সম্মুখের প্রায় এক ডজন গাছ কেটে ন্যাড়া করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত দু’দিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষ যে গাছগুলোর ডালপালা এবং মাথা কেটেছে তার অধিকাংশই কৃষ্ণচুড়া। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের সাবেক ছাত্র-শিক্ষকরা দাবী করেছেন, এখনই কৃষ্ণচুড়ায় ফুল ফুটতো। অথচ এগুলে কেটে কলেজের সৌন্দর্য্য বিনস্ট করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি শামিল শাহরুখ তমাল বলেন, কলেজর প্রশাসনিক ভবনের সামনের প্রধান সড়ক লাগোয়া শহীদ মিনার পর্যন্ত ৮ থেকে ১০টি কৃষ্ণ চুড়া গাছ এর ডালপাটা কেটে ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। পাশেরই মসজিদের কর্নারের ২টি কৃষ্ণ চুড়া গাছও ন্যাড়া। এই গাছ কলেজের ঐতিহ্য এবং শোভাবর্ধনকারী। এই বসন্তেই হয়তো ফুল ফোটার সময় হতো। এই মুহুর্তে গাছগুলো কেটে ফেলায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ছাত্রদের মাঝে।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর বরিশাল জেলা সভাপতি ও বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি কলেজের ওইসব গাছের গোড়ায় মাটি, পানি দিয়েছেন। কৃষ্ণচুড়া গাছে এই বসন্তে ফুল ফোটার কথা। অথচ কলেজের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের সব গাছগুলোকে কেটে ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। এমনভাবে ডজনখানেক গাছ কাটা হয়েছে যে আর এগুলো মাথা সোজা করে দাড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, রাস্তায় লাইটের আলো পরে না এমন কথা কাউন্সিলর বলতেই পারেন। কিন্তু একটা গাছেরও মাথা নেই। এগুলো কাটার আগে তো পরিকল্পনা থাকা উচিৎ। অথচ বিএম কলেজ বৃক্ষরোপন করে ২ বার পুরস্কার পেয়েছে।
মারুফ হোসাইন নামে কলেজের প্রাক্তন এক ছাত্র ফেসবুকে উল্লেখ করেন, ‘কলেজের কৃষ্ণচুড়া গাছগুলোর ডালপালা এভাবে কাটায় নিরব প্রতিবাদ করছি।’ কলেজের অপর এক ছাত্র বলেন, আমরা যে গাছ দেখে মুগ্ধ হতাম, সেই গাছ কেটে ন্যাড়া করা হয়েছে। এখন পরিবেশবাদীরা কোথায়!
তবে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর কয়েকদিন অবিহিত করেছেন যে গাছের ডাল রাস্তার উপর এসে পড়েছে। যেকারনে গাছগুলোর ডাল ছেটে দেয়া হয়েছে।
এব্যপারে নগরীর ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব অবশ্য বলেছেন, তিনি কোন গাছ কাটতে বলেননি। তারের উপর কিছু ডাল পড়েছিল সেগুলো ছেটে দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া তিনি তো বিএম কলেজের প্রশাসক নন যে, তার কথায় কলেজের গাছ কেটে ন্যাড়া করে ফেলা হবে।
