বহিরাগত নিয়ে শংকা মুলাদী ও বানারীপাড়া

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
আগামীকাল রবিবার বরিশালের মুলাদী ও বানারীপাড়া পৌরসভায় ভোট। দুটি উপজেলায়ই সবার চোখ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে। উভয় পৌরসভায় আ’লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী যেন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। সহিংসতা রোধে দুই পৌরসভায়ই বিপুল সংখ্যক আইনশৃংখলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে মুলাদী ও বানারীপাড়ার আসপাশের উপজেলা থেকে বহিরাগতরা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

মুলাদী পৌরনির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শওকত হোসেন জানান, পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭৬জন। ইভিএম পদ্মদিতে হতে যাওয়া এখানকার ভোটে প্রতি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত দুটি নির্বাচনে নির্বিঘে জয়ী নৌকার মেয়র প্রার্থী শফিকুজ্জামান রুবেলের জয় এবার চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা শ্রমিকলীগের বহিস্কৃত সভাপতি দিদারুল আহসান খান (মোবাইল ফোন)। ফলে নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই নৌকা ও মোবাইল ফোন প্রতীকের কর্মীদের মধ্যে সংঘাত লেগে আছে।

আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী দিদারুল আহসান খান সাংবাদিকদের বলেন, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত মুলাদী পৌর এলাকায় অবস্থান করছে। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং ভোটের দিন কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে বলে খবর পেয়েছেন।

সেখানকার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদ তালুকদার বলেন, তিনিসহ দলের ৯জন মেয়র প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেও বহিস্কারের হুলিয়া সবার গলায় ঝুলছে। তিনি বলেন, ভোটের আগ মুহুর্তে মুলাদীতে পার্শবর্তী হিজলার কাজিরহাট, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার বহিরাগতরা অবস্থান করছে। আর মুলাদীর বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় নৌকার পক্ষে হায়ারে এসেছে। কিন্তু সাধারন মানুষ ভোট দিতে চায়। ভোট হলে নৌকা তৃতীয় আর মোবাইল ফোন প্রথম হবে এমনটাই জানালেন আসাদ।

মুলাদী পৌরনির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শওকত হোসেন অবশ্য সাংবাদিকদের বলেছেন, বহিরাগত মুক্ত করাসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পৌর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে বানারীপাড়া পৌরসভায় ভোটার ৯ হাজার ১২৭ জন। বানারীপড়ায়ও বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিস্কৃত) জিয়াউল হক মিন্টুর নারিকেল গাছ প্রতিকের দিকে নজর সাধারন ভোটারদের। কারন হিসেবে জানা বানারীপাড়ায় আ’লীগের একটি বড় অংশ এবং এক শীর্ষ জনপ্রতিনিধি নারিকেল গাছ প্রতিকের পক্ষে ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন।

ক্ষমতাসীন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী মিন্টু শক্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতা গড়ে তোলায় নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীলের বিজয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির উত্তোরন ঘটাতে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও সমাজকল্যান সম্পাদক সুজিত নন্দী শুক্রবার বানারীপাড়ায় নৌকার প্রচারনায় অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মিন্টু শুরু থেকে দাবী করে আসছেন, সুষ্ঠু ভোট হলে তিনিই বিজয়ী হবেন। নির্বাচনের শুরু থেকেই তাকে স্বাভাবিক প্রচার প্রচারনায় অংশ নিতে দিতে বাঁধা দিচ্ছে নৌকার কর্মীরা। নির্বাচনী এলাকায় আসপাশের উপজেলা থেকে বহিরাগত অবস্থান করছে। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এসব ব্যাপারে বানারীপাড়া পৌরসভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: নুরুল আলম বলেন, বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। আইনশৃংখলাবাহিনীকেও বলা হয়েছে। এরপরও কেউ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *