নাগরিক রিপোর্ট:
বুক ভরা কস্ট আর ক্ষোভ নিয়ে চলছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেননা তারা শ্রমিকদের হামলার বিচার এখনও পাননি। ভয়ে ক্যাম্পাসের বাহিরেও যেতে পারছেন না। যেকারনে রাত কাটছে বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা চত্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সোমবার শিক্ষার্থীরা আগুন ঝরা প্রতিক ব্যবহার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিকেলে ছাত্র নির্যাতনের স্থির চিত্র প্রদর্শনী এবং সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছেন। এদিকে চরমোনাই মাহফিলের কারনে শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস না ছেড়ে কর্মসুচী স্থগিত রেখেছে। একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।
জানা গেছে, বুধবার চরমোনাইতে ৩দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শুরু হবে। সরাসরি সড়কপথে চরমোনাইতে পৌছাতে রূপাতলী বাস টার্মিনাল ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অতিক্রম করতে হয়।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন জানান, রোববার রাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন যৌথ সভা করেছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সোমবার থেকে ৩দিন পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত থাকবে। চরমোনাই মাহফিলে আগত মুসুল্লীদের সুবির্ধাতে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩ দিন পর পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম সুজয় শুভ বলেন, তারা আপাতত সড়ক অবরোধ কর্মসূচী করবেন না। তবে অন্যান্য কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। সোমবার দুপুরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্যাতনের স্থির চিত্র প্রদর্শনী এবং সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছেন।
সুজয় শুভ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শনিবার সন্ধ্যায় তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বাস বাস্তবায়ন করেননি। যেকারনে মাহফিল বিবেচনায় সড়ক অবরোধ না করে তারা ক্যাম্পাসে নানা ধরনের কর্মসুচী অব্যাহত রাখবেন।
এর কারন হিসেবে তিনি জানান, ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। শত শত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেও সোমবার মশাল হাতে আগুন ঝরা প্রতিকে ফেসবুকে স্টেটাস দিয়ে শুভ জন্মদিন জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, তারা অনেকেই ভয়ে আর মেসে যেতে পারছেন না। যেকারনে ক্যাম্পাসের খোলা চত্বরে রাত কাটাচ্ছেন। তাদের সাথে কুকুরও বসবাস করছেন। ৩ দফা দাবী বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন থেকে সরছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরের রূপাতলী বাস টার্মিনালে ২ শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে এবং হামলাকারী বিআরটিসি বাস শ্রমিকদের গ্রেফতারের দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হামলাকারী বিআরটিসি’র বাস শ্রমিক রফিককে গ্রেফতার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ২ ঘন্টা পর শিক্ষার্থীরা ওই অবরোধ তুলে নেন।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আবাাসিক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায় একদল পরিবহন শ্রমিক। হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীরা শনিবার বিকাল পর্যন্ত দফায় বিক্ষোভ ও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে আসছে। হামলার ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে শুক্রবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করলে শনিবার সকালে মালিক-শ্রমিকরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল।
