ঢাকা-বরিশাল আকাশপথ : বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ৬৮ আসনের একটি বিমান গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা থেকে ৬৪ জন যাত্রী নিয়ে বরিশালে এসে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিকালের ফ্লাইটটিতে আসা-যাওয়ায় যাত্রী ছিল ৬৮ জন করে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বরিশালের ট্রাফিক অফিসার সৈয়দ মো. মোস্তাইন বলেন, প্রতিদিনই তাদের যাত্রীসংখ্যা এরকমই হয়। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী নভোএয়ার এয়ার লাইন্সের ট্রাফিক কর্মকর্তা মো. সাব্বিরও জানালেন, বুধবার তাদের একমাত্র ফ্লাইটটির আসা-যাওয়ায় ৬৮টি আসন পূর্ন ছিল।
বেসরকারী বিমান সংস্থার এ দুই কর্মকর্তার মতে, আকাশপথে ঢাকা-বরিশাল রুটটি এখন লাভজনক। প্রতিদিনই তাদের সবগুলো আসনের টিকেট আগেভাগে বিক্রি হয়ে যায়।
বিভিন্ন সুত্র মতে, যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘বিমান বাংলাদেশ’ বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল এখনও বন্ধ রেখেছে। যদিও যাত্রীদের কাছে আস্থা ও নির্ভরতার ক্ষেত্রে বেসরকারী বিমানের চেয়ে বাংলাদেশ বিমান অনেক এগিয়ে। বেসরকারী দুটি সংস্থা যখন এ রুটে রমরমা ব্যবসা করছে, তখন যাত্রী সংকট দেখিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করে রাখার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল কার্যালয়ের ২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১১ জনকে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে বদলী করায় বরিশালের সচেতন মহলে সন্দেহ জেগেছে- এ রুটে অদৃশ্য ইশরায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি-না ?
বরিশাল বিমান বন্দরের দেয়া তথ্যমতে, কোভিড পরিস্থিতির কারনে গতবছর ২১ মার্চ সারাদেশের ন্যায় বরিশাল-ঢাকা রুটেও বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে গত বছর ১২ জুলাই থেকে প্রতিদিন নভোএয়ারের একক ফ্লাইট এবং ১৬ জুলাই থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ডবল ফ্লাইট চালু হয়। ৩২০০ টাকা যাত্রী ভাড়া হলেও অধিক চাপের কারনে ২/৩ গুন বেশী ভাড়ায় টিকেট ক্রয় করতে হয় ওই দুই এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের।
বিমান বাংলাদেশের বরিশাল অফিসের বিক্রয় কর্মকর্তা রেজাউর রহমান জানান, গতবছর ২১ মার্চ সর্বশেষ তাদের ফ্লাইট বরিশালে এসেছিল। তার আগে সপ্তাহে ৫দিন ৭৪ আসনের ফ্লাইট পরিচালনা করতো রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি।
অধিক নিরাপদ ও আরামদায়ক এবং ভাড়া কম (৩২০০ টাকা) হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট নিয়ে আগ্রহও ছিল বেশী। কিন্তু তাদের সময়সূচিতে নিয়মিত রদবদল হওয়ায় এবং টিকেট বিক্রয়ের আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রায়ই বিমানের আসন শুন্য থাকতো বলে যাত্রীদের সুত্রে জানা গেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমানের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে বেসরকারি বিমান সংস্থার গোপন আতাতেরও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বরিশাল থেকে বিমান বাংলাদেশের অফিস গুটিয়ে নেয়ার পায়তারা চলছে বলে সচেতন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে বরিশাল কার্যালয়ে কর্মরত ২১ জনের মধ্যে হিসাব ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির সিকদার এবং ট্রাফিক অফিসার শহীদুল আলমসহ ১১জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গত ৩ সপ্তাহে ঢাকায় বদলী করা হয়েছে।
তবে সংস্থার বরিশাল জেলা ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, কোভিড পরিস্থিতির কারনে ঢাকা-বরিশাল রুটে গত বছরের ২১ মার্চ থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। পূনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা থাকলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনও এ রুটের জন্য কোন সময়সূচী দেননি। বরিশাল থেকে অফিস গুটিয়ে নেয়ার বিষয়টি গুজব দাবী করে তিনি বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকায় বদলী নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।
ঢাকায় বসবসকারী বরিশালের সন্তান জাসদের (ইনু) যুগ্ন মহাসচিব মো. মহসিন নিয়মিত বিমানে বরিশালে আসাযাওয়া করেন। তিনি বলেন, অস্বাভাবিক চাহিদা থাকায় তিনি বেসরকারী বিমানের ৩২০০ টাকার টিকেট ১০ হাজার টাকায়ও কিনেছেন। সেখানে বাংলাদেশ বিমান যাত্রী না পাওয়ার অজুহাত পুরোটাই মিথ্যা। এ প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তারা তাদের অনিয়ম-দূর্ণীতি ধামাচাপা দিতে এসব মিথ্যাচার করছেন। ফলে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলবাসী আকাশপথে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক বিমান বাংলাদেশের যাত্রীসেবা থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন।
বরিশালে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট নিয়মিত চালু করার দাবীতে সবগুলো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে বরিশালে বিমান সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে বিমান বাংলাদেশ নানা তালবাহানা করে একাধিকবার তাদের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিমানের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট চালু হলে উল্টো বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোকে যাত্রী সংকটে পড়তে হবে। বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট স্থায়ীভাবে বন্ধের পায়তারা হলে আবারও আন্দোলনে নামবেন বলে জানান এ নাগরিক নেতা।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *