আ’লীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বে আবার অশান্ত মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : আবারও অশান্ত হয়ে ওঠেছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়ন। আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের মধ্যে গত শনিবার রাতে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার ঐতিহ্যবাহি উলানিয়া বন্দরে আতংক বিরাজ করছে। স্থগিত থাকা দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী বর্তমানে কারান্তরীন জামাল হোসেন মোল্লা ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রুমানা সরদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এসময় ভাংচুর করা হয় উলানিয়া বন্দরে কয়েকটি দোকানপাট।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রুমানা সরদারের ছেলে তারেক সরদার দীর্ঘদিন কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পায়। সে দলবল নিয়ে ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল উলানিয়া বন্দরে আধিপত্যের বিস্তারের চেষ্টা চালায়। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী জামাল মোল্লার ভাই রুমান মোল্লার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ গ্রুপকে প্রতিরোধের প্রস্তুুতি নেয়ায় কয়েকদিন যাবত উলানিয়া বন্দরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শনিবার রাতে দুইপক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। পুলিশ এসে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার কনস্টেবল খোরশেদ (২২) সহ উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রুমান মোল্লা বলেন, তারেক সরদার কারাগার থেকে মুিক্ত পেয়ে নেতৃত্বে নৌকার প্রার্থী জামাল মোল্লার কর্মী সমর্থকদের মারধর ও নৌকার নির্বাচনী অফিসগুলো ভাংচুর করতে থাকে। শনিবার রাতে উলানিয়া বন্দরে কয়েকজনকে মারধর করলে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়।
বিদ্রোহী প্রার্থী রুমানা সরদারের ভাই উলানিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লিটন (তারেক সরদারের মামা) বলেন, জামাল মোল্লার লোকজন শনিবার রাতে রুমানা সরদারের ৪ জন কর্মীকে মারধর করলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম বলেন, গতকাল রোববার ২ শতাধিক পুলিশ নিয়ে দিনভর উলানিয়া বন্দর সহ আশপাশের গ্রামে অভিযান চালানো হয়েছে। কেউ গ্রেফতার না হলেও উভয়পক্ষের সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে বলে দাবী করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, মেঘনা তীরের জনপদ উলানিয়া ইউনিয়ন বিভক্ত করে দক্ষিণ উলানিয়া ও উত্তর উলানিয়া গঠন করা হয়েছে। এ কারনে মামলা হওয়ায় দীর্ঘবছর বন্ধ থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ধার্য্য ছিল। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে দুই ইউনিয়নেই নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লাগাতার সংষর্ষ চলতে থাকে। এ দুই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র অনুসারী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা আসনের সংসদ সদস্য পংকজ নাথের অনুসারী। ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *