করোনা পরীক্ষায় নতুন আরেকটি পিসিআর মেশিন ফিরিয়ে দিল শেবাচিম কর্তৃপক্ষ!

Spread the love

নাগরিক রিপোট : করোনা প্রাদুর্ভাবের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বরিশাল বিভাগে শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিন আগেরদিনের রেকর্ড অতিক্রম করছে। বিভাগের ৬ জেলায় প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে ৫ শতাধিক। কিন্ত আরটি পিসিআর ল্যাব সংকটের কারনে সংগ্রহীত নমুনা এখানে পরীক্ষা করা যাচ্ছেনা। উদ্ভুট পরিস্থিতিতে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা ও ভোলায় পাঠানো হচ্ছে। এতে শুধু স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরই নয়, নমুনা দেয়া রোগীরাও আছেন ভোগন্তিতে।
সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) আরও একটি পিসিআর মেশিন বরাদ্ধ হলেও জনবলসহ অন্যান্য সংকট দেখিয়ে সেটি গ্রহন করা হয়নি।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বিভাগের ৬ জেলার মধ্যে বরিশাল নগরীর শেবাচিম এবং ভোলা সদর হাসপাতালে একটি করে আরটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। প্রতিটির নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা হচ্ছে ১৮৮টি। সে হিসাবে দুটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন ৩৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়।
ভোলায় নমুনা সংগ্রহ কম হওয়ায় সেখানে সংকট হচ্ছেনা। বরিশালসহ বিভাগের অপর চার জেলা পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, বরগুনা ও পিরোজপুরের সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরন করা হয় বরিশাল শেবাচিম’তে স্থাপিত আরটি পিসিআর ল্যাবে। যে কারনে প্রতিদিন এখানে ৫ শতাধিক নমুনার স্তুুপ হচ্ছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা: বাসুদেব কুমার দাস বলেন, শেবাচিম’র পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হয়। অবশিষ্ঠ নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা ও ভোলায় পাঠানো হচ্ছে।
ভোলা জেলা সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, তার জেলায় প্রতিদিন নমুনা সংগৃহিত হয় ৭০-৮০টি। এছাড়া বরিশাল থেকে পাঠানো নমুনারও পরীক্ষা করেন তারা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, ২-৩ দিনের নমুনা একত্রে ঢাকা ও ভোলায় বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হয়। সেগুলোর রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহের বেশী সময় লেগে যায়। গত বুধবার বরিশাল থেকে ৫০০ নমুনা ঢাকায় ও ১০৪টি নমুনা ভোলায় পাঠেেনা হয়েছে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল ঢাকায় পাঠানোর নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে বুধবার।
ওই সুত্রটি জানায়, বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা ও ভোলায় নমুনা পাঠাতে বড় অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ প্রায় একমাস আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বরিশালে আরেকটি পিসিআর ল্যাব বরাদ্ধের প্রস্তাব দেয়া হলে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সেটি গ্রহন করেনি। পরবর্তীতে ওই ল্যাবটি নারায়নগঞ্জে প্রেরন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে শেবাচিম’র অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, বরিশালের জন্য আরেকটি পিসিআর মেশিন কাগজ কলমে পাওয়া গেছে। বাস্তবিক অর্থে সেটি পৌছায়নি। নতুন পিসিআর ল্যাব স্থাপনে এর এক্সোসারিজের (ফ্রিজ, ল্যাবের নানা সরঞ্জম) ব্যবস্থা করা ব্যবস্থা হয়নি। নেই প্রয়োজনীয় জনবলও।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বরিশালের জন্য আরেকটি পিসিআর মেশিন বরাদ্ধ হয়েছে। সেটিও আসবে। বরাদ্ধ হওয়া মেশিনটি শেবাচিম কর্তৃপক্ষ গ্রহন করতে চাচ্ছেন না এমন বিষয়টি জানা নেই বলে দাবী করেন স্বাস্থ্য সেক্টরে বিভাগের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।
পরিচালক ডা: বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বৃহস্পতিপতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগে ২৪৭জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা চলতি দ্বিতীয় ঢেউ’র মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৃহস্পতিবার আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে মোট ১২৬জন রোগী ভর্তি আছেন। আইসিইউতে ১২টি শয্যাতেই রোগী আছে। গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২জন ও করোনা ওয়ার্ডে ১ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ অবস্থায় করোনার সংক্রমন বাড়ায় শেবাচিম হাসপাতালে নতুন রোগীর জায়গা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *