মেহেন্দীগঞ্জে রাজনীতির বলি ৪জন

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক:
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এক মাসের ব্যবধানে আবারও জোড়া খুনের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় বইছে। বৃহস্পতিবার বিভক্ত উত্তর উলানীয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুই জনকে হত্যা করেছে স্থানীয় আ’লীগের প্রতিপক্ষরা। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮জনকে আটক করেছে মেহেন্দীগঞ্জ পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ১০ এপ্রিল বিভক্ত উলানীয়ার অপরাংশ দক্ষিন উলানীয়ায় আ’লীগের দুই গ্রæপে সংঘর্ষে ২জন নিহত হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতাসীন দলের দুই গ্রæপে সংঘাতে এভাবে একের পর এক খুনের ঘটনায় উত্তর ও দক্ষিন উলানীয়া অনেকটা আতংকের এলাকায় পরিনত হয়েছে। প্রতিটি খুন রাজনীতির বলি এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা। অভিযোগ উঠেছে, সংঘাতে জড়িত মুল হোতারা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকায় এভাবে একের পর এক লাশ পড়ছে উলানিয়ায়।

মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, বৃহস্পতিবার আব্দুস সাত্তার ঢালী (৫৫) ও সিদ্দিকুর রহমান (২৮) হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১০ এপ্রিল দক্ষিন উলানিয়ায় শাহিদ চৌধুরী ও সাইফুল ইসলাম সরদার খুন হন। পরদিনই পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরির্দশন করে প্রয়োজনে গুলি করার নির্দেশ দেন ওসিকে। এ প্রসঙ্গে ওসি কালাম বলেন, তারা চেস্টা করেছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার।

দোষীদের গ্রেফতারেরও চেস্টা চলছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মেহেন্দীগঞ্জের উলানীয় ইউনিয়ন নদীভাঙ্গনের কারনে বিভক্ত করে সম্প্রতি উত্তর উলানীয়া ও দক্ষিন উলানীয়া করা হয়। ওই দুই ইউপিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ ও জেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি অনুসারীরা প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এর নেপথ্যে মেঘনা ঘেরা উলানীয়ার মাছ ঘাট ও চরের আধিপ্ত দখল করাও রয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল দক্ষিন উলানীয়ায় দুই জন খুনের মুল হোতারা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে থাকায় ফের রাজনীতির বলি হয়েছে ২জন এমনটাই মনে করেন সংশ্লিস্টরা। জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার উত্তর উলানীয়ায় নিহত ছত্তার ঢালীর ভাই আ’লীগ নেতা জামাল ঢালী বলেন, আগেরদিন ধুলখোলার আলীগঞ্জ বাজারে এমপি পংকজ বিশেষ বরাদ্ধের চাল দিয়ে গেছেন। সেখানে উস্কানিমুলক কথা বলার পরই এই জোরা খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার ভাই রব ঢালী বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

লক্ষিপুরের ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এবং নিহত ছত্তার ঢালীর ভাই আব্দুর রব ঢালী বলেন, হত্যাকান্ডের পর এলাকা থমথমে। পুলিশ সুপার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুবিচার করার আশ^াস দিয়েছেন। তিনি দোষীদের আসামী করে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন। ইউপি সদস্য রব বলেন, এর মুল নায়ক এমপি ও তার অনুসারীরা। এমপি পংকজ পুতুল নাচ খেলেছেন।

কালাম ব্যাপরীর নেতৃত্বে তার দুই ভাইসহ আতœীয়রা এই খুনের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, মেম্বার হয়েও গত ২ বছর এলাকায় যাওয়া হয়না তার। এই হত্যা রাজনৈতিক আক্রশে হয়েছে। কালাম ব্যাপারী চর খায়, গাং খায় এমপিকে ভাগ দিয়ে। ওই এলাকার একশ দোকানদারকে জিজ্ঞাস করলে খুনের কারন এটাই জানা যাবে। তিনি বলেন, গত মাসে উত্তর উলানীয়ায় ২জন খুন হলেও এর মুল হোতারা আটক না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তার ভাইসহ ২জন হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ধুলখোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কালাম বেপারী বলেন, গত মাসে দক্ষিণ উলানিয়ায় সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনিও আসামী।

এ কারনে গত একমাস যাবত আত্মগোপনে ঢাকায় আছেন। তাকে ফাঁসাতে ঢালী পরিবার নিজেরাই এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। সাংসদ পংকজ নাথ অনুসারী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু বলেন, কি করে আবার উত্তর উলানীয়ায় খুনের ঘটনা ঘটলো তা বোঝা যাচ্ছে না। কেউ বলে বিয়া নিয়ে, কেউ বা বলে পারিবারিক দ্বন্দ। এই সমস্যার সমাধান কেবল এমপি হাসনাত ভাই ও পংকজ এক সাথে বসে করতে পারেন। তারা যদি বসে সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে এমনটা হতো না। তিনি বলেন, উলানীয়ায় ইউপি নির্বাচন স্থগিত। এরপরও একটার পর একটা মামলা আর খুন।

দল নিয়ে মারামারি নেই, কেবল মারামারি নির্বাচন নিয়ে। এব্যাপারে সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ অনুসারী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও মেহেন্দীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ বলেন, যিনি এই এলাকার জনপ্রতিনিধি সেই তিনিই ওই এলাকাকে শাসন, শোষন করার জন্য অশান্ত করে রাখে। আ’লীগের নেতাকর্মীরা একের পর এক খুন হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথের অনুসারীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই ঘটনায় মামলা হবে। যারা ঘটিয়েছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *