ইয়াস: বরিশালে পানিবন্দি বহু মানুষ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালে ইয়াস এর প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি মেঘনা ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলায়। সেখানকার বেরিবাধ ভেঙ্গে পানি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। ডুবে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের, ফসল। রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামের শতশত মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ইয়াস মোকাবেলায় উদ্যোগ নিলেও ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসুচীর আওতায় জেলায় কোন স্বেচ্ছাসেবক না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এদিকে ঘূর্নিঝরে ক্ষতিগ্রস্থরা এখন পর্যন্ত সহায়তা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।


মেঘনা ঘেরা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বহেরাচরে আশ্রায়ন প্রকল্পের ১ম পর্যায় নির্মিত ৫টি ঘর জোয়ারের পানির চাপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিতে জয়নগর, দড়িচর-খাজুরিয়া, বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাঁধ, রাস্তা ও ব্রীজ-কালভার্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শতশত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উলানিয়ার কালিগঞ্জ ঘাটের পল্টুনের দুটো শিকল ছিঁড়ে গেছে। দড়িচরখাজুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওর্য়াডের সিকদার হাটে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। সেখানকার অসংখ্য মাছের ঘের, ইরি ধান ও পানের বরজ জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে।


জেলার মেঘনা ঘেরা হিজলা উপজেলায় ৩০০ মিটার বাঁধ ধ্বসে গেছে। গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের রাস্তা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের। বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউশিয়া, বাহেরচরে বেরিবাধ ভেঙ্গে পানি ঢোকায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বড়জালিয়ার ৩টি গ্রাম। হরিনাথপুর গ্রামের অনেক বাড়িঘরে পানি উঠে অসংখ্য মানুষ পানিতে আটকা পড়েছে। বাহেরচরের ইউপি সদস্য জামাল রাঢ়ী বলেন, ঘুর্নিঝরের প্রভাবে বেরিবাধ ভেঙ্গে গ্রামে পানি ঢুকে গেছে। যেকারনে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারন মানুষ।

বাউশিয়া ইউপি সদস্য ঝন্টু হাওলাদার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সহায়তা পাননি ক্ষতিগ্রস্থা। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, বেরিবাধ ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা শুনে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অন্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে তাদের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন চলছে।


বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চন্দ্রমোহন ও চরমোনাই ইউনিয়নে জোয়ারের প্রভাবে প্রায় ১০০০ পরিবার পানিবন্দী হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন দাবী করেছে। তবে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এই সংখ্যা কয়েকগুন বেশি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এদিকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে প্রবেশ করেছে জোয়ারের পানি।


গৌরনদীতে নদ-নদীতে অস্বাভাবিক ভাবে পানির উচ্চতা বেড়েছে। উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী সংলগ্ন সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর-কুড়িরচর এলাকার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে গ্রামীণ খাল-বিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘূর্নিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে স্থায়ী ৭টি সাইক্লেন সেন্টার ও ৬৯ শিক্ষা প্রতিষ্টান আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।


মুলাদীর কাজীরচর এলাকায় রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ঘেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নি¤œাঞ্চল। বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়ন এর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়ন এ জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।


বাবুগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা জোয়ারে প্লাবিত হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দোয়ারিকা ও শিকারপুর ব্রিজদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি গাছ ভেঙ্গে পড়ে। বাবুগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এর সহযোগিতায় মহাসড়কের উপর থেকে গাছ অপসারণ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।


উজিরপুর উপজেলায় ৪-৫ টি ইউনিয়নে জোয়ারের পানি উঠে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে জোয়ারের পানি উঠে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। যদিও এসব এলাকায় এখন পর্যন্ত সহায়তা পৌছায়নি।


বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, বরিশাল অঞ্চলে তাদের ৩৩ হাজার ৪শ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। কিন্তু বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় কোন সেচ্ছাসেবক না থাকায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *