উদ্ধার হওয়া লাশটি গৃহবধু নাজনীনের!

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোরে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুমকারী সাকিব হোসেনের (২৩) বাড়ির অদুরে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে সাকিবের বাড়ি সংলগ্ন ধানক্ষেতে পানির মধ্যে বস্তাবন্দী মৃতদেহটি পাওয়া যায়। ধারনা করা হচ্ছে মৃতদেহটি সাকিব হোসেনের স্ত্রী বগুড়ার মেয়ে নাজনীন আক্তারের (১৯)। পুলিশ সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে গত বুধবার সারাদিন সন্ধান চালিয়ে নাজনীনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি।


গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, বুধবার সকালে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে সাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দুরে ধানক্ষেতে পানির মধ্যে বস্তাবন্দী কিছু একটা দেখতে পান স্থানীয় কৃষক তাজেল আকন (২৮)। তিনি বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে এক নারীর হাতবাঁধা অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।


ওসি আফজাল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত সাকিবকে নিয়ে বগুড়া থেকে আসা পুলিশ দল বুধবার সারাদিন অভিযানে চালিয়ে নাজনীন আক্তারের মৃতদেহের সন্ধান না পেয়ে বগুরা ফিরে গেছে। বুধবার অজ্ঞাত নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেটি শনাক্তের জন্য বগুরা থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। নাজনীনের স্বজনরা গৌরনদীতে পৌছার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে ওই মৃতদেহটি নাজনিনের কি-না।


প্রসঙ্গত, গৌরনদীর হরহর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল করিমের ছেলে বগুড়া সেনানিবাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাকিব হোসেন গতবছর ৩০ সেপ্টেম্বর বগুরা সদর উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে নাজনীন আক্তারকে বিয়ে করেছে। গত ২৪ মে সাকিব স্ত্রীসহ হরহর গ্রামে আসার পর নাজনীন আক্তার নিঁখোজ হয়। সাকিব তার শ্বশুর পরিবারের কাছে দাবী করেছে, নাজনীন তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। সাকিব বগুরা সেনানিবাসের কর্মস্থলে যোগদান করেছে।


মেয়ে নিঁখোজের তথ্য জানিয়ে গত ২৬ মে বগুড়া কোতোয়ালী থানায় সাধারন ডায়েরী করে নাাজনীনের বাবা আব্দুল লতিফ। গত মঙ্গলবার পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, ২৪ মে গৌরনদীর গ্রামের বাড়িতে পৌছার পর ওই রাতেই গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নাজনীনকে হত্যার পর সেপটি ট্যাংকির মধ্যে মৃতদেহ গুম করা হয়েছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পুলিশ সেপটি ট্যাংকিতে অভিযান চালিয়ে নাজনীনের শরীরের চামরার খন্ডাংশ ও ওড়না উদ্ধার করলেও মৃতদেহ পায়নি।


সাকিব পুলিশকে জানিয়েছে, দরিদ্রতার তথ্য গোপন রেখে স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে নাজনিনকে বিয়ের পর স্ত্রী তাকে ‘ভিক্ষুকের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছিল। এর প্রতিশোধ নিতেই সে নাজনীনকে হত্যা করেছে। বুধবার মৃতদেহ উদ্ধার অভিযানের আগেই সাকিবের বাবা-মা-ভাইবোন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *