নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালে এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে চলছে কোম্পানীগুলোর নৈরাজ্য। সরকার সিলিল্ডার প্রতি ৮৪২ টাকা নির্ধারন করলেও তার তোয়াক্কা না করে ৮০ থেকে ৯০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি চলছে। অপর দিকে ১ জুন থেকে নির্ধারন করা সরকারী দাম লঙ্ঘনে নগরীতে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃস্টি করছে ব্যবসায়ীরা। এর ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন বরিশালের সাধারন গ্রাহকরা। অথচ স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নগরীর ঘোড়াচাঁদ দাস রোডের এলপি গ্যাস বিক্রেতা সুজন চৌধুরী বলেন, গত ১ জুন থেকে সরকার নতুন করে এলপি গ্যাসের খুচরা মুল্য ৮৪২ টাকা নির্ধারন করে। এর আগে গত মাসে ছিল ৯০৬ টাকা। কিন্তু গ্যাস কোম্পানীগুলোর বরিশালের ডিলাররা সরকারী রেটে গ্যাস বিক্রি করছে না। বরং কোন কোনটার দাম বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, এলপি গ্যাস বসুন্ধরা এখন পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৮৭০ টাকা এবং খুচরা ৯২০ টাকা। একইভাবে সরকার দাম নির্ধারনের পরপরই দাম বৃদ্ধি করে এলপি গ্যাস প্যাট্রো ম্যাক্স, ওরিয়ন, সেনা কল্যান ৮৮০ টাকা করে পাইকারী বিক্রি বিক্রি করছে। যার খুচরা দাম ৯৩০ টাকা। যমুনা, লাফসও একইভাবে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সে অনুযায়ী এলপি গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি সরকারী দরের বিপরীতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা বেশি মুল্যে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ১ জুন থেকেই গ্যাস সরবরাহ অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃস্টি করছে।
নগরীর কাউনিয়ার গৃহিনী শাম্মি জাহান বলেন, গত মঙ্গলবার ৮৯০ টাকায় তিনি গ্যাস কিনেছেন। তার স্বামী দোকানীকে বলছে যে সরকার নির্ধারন করছে ৮৪২ টাকা, কেন বেশি রাখছেন। জবাবে দোকানী বলেছেন তার বাড়তি দামে গ্যাস কেনা রয়েছে। একইভাবে ক্ষুব্দ মত দিয়েছেন নগরীর একাধিক ক্রেতা।
এলপি গ্যাস ওরিয়ন এর বরিশালের ডিলার তরিকুল ইসলাম বলেন, তারা বাড়তি দামে গ্যাস কিনে রেখেছেন। যেকারনে খুচরা বাজারে ৯০০-৯২০ টাকায় বিক্রি চলছে। তিনি বলেলন, এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলাররা জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সাথে দেখা করেছেন। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে আবেদন করতে বলেছেন। তিনি বলেন, দাম নিয়ে যাতে বাজারে সমস্যায় পড়তে না হয় এজন্য গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাসের এই সমস্যা কোম্পানীগুলোর করার কথা থাকলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।
লাফার্স গ্যাস কোম্পানীর পরিবেশক মো. রুবেল বলেন, গত ৩১ মে সরকার নতুনভাবে দাম নির্ধারন করে দিয়েছে ৮৪২ টাকা। ওইদিন বিকাল ৫টায় সবগুলো এলপিজি কোম্পানী ১২ কেজির সিলিন্ডার মূল্য কোম্পানী ভেদে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। রুবেল বলেন, তিনি লাফার্স কোম্পানীর ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার তিনি কোম্পানী থেকে ৯০০ টাকা ক্রয় করছেন। এরসঙ্গে ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ রেখে খুচরা বিক্রেতাদের দিতে হবে তাকে। ওই গ্যাস ভোক্তারদের কাছে ৮৪২ টাকায় বিক্রি করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। যমুনা গ্যাস কোম্পানীর পরিবেশক মো. শাহিন একই যুক্তি দেখিযে বলেন, সরকারিভাবে ৮৪২ টাকা দর নির্ধারন করা হয়েছে গত মার্চ মাসের আন্তর্জাতিক বাজারের দর হিসাব করে। ফলে সরকার নির্ধারিত দরের সঙ্গে কোম্পানীর আমদানী দর মিলছেন না।
এস প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারকে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বরং খুদে বার্তায় ফোনের কারন জানতে চাইলে তাও জানানো হয়েছে। অবশ্য এরপরও জেলা প্রশাসক সাড়া দেননি।
এব্যাপারে বরিশাল জেলা মার্কেটিং অফিসার এ এস এম হাসান সারোয়ার বলেন, নগরীতে গ্যাসের দাম নিয়ে সমন্বয় না থাকায় জনগন সরকার নির্ধারিত দরে এলপি গ্যাস পাচ্ছেন না। তিনি এ বিষয়টি সম্প্রতি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। গ্যাসের দাম নিয়ে কি নির্দেশনা আছে তা প্রধান কার্যালয়েও আলাপ করে ব্যবস্থা নিবেন।
