পদ্মা সেতুর কাজ বাকি সাড়ে ৬ শতাংশ

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক:
নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। এর আগেই শুরু হয় স্প্যানের ভেতরে রেলওয়ে স্ল্যাব আর ওপরে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ, যা এখন শেষের দিকে। বাকি শুধু ভেতরে রেলপথ আর ওপরে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, মূল সেতুর নির্মাণকাজ বাকি রয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সেতুটিতে আগামী বছরের জুনের মধ্যে একই সঙ্গে গাড়ি ও ট্রেন চলাচলের উপযোগী করতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।

আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। আর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। ৪২টি পিয়ারের ওপর সব মিলিয়ে ৪১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর। বিশ্বের দীর্ঘতম স্টিল কাঠামোর ট্রাস সেতুটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

দ্বিতল পদ্মা সেতুর নিচতলায় চলবে ট্রেন। এজন্য স্প্যানগুলোর ভেতরে বসানো হচ্ছে রেলওয়ে স্ল্যাব। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটিতে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসবে। গতকাল পর্যন্ত রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি ছিল মাত্র ১১২টি। রেলওয়ে স্ল্যাবগুলো বসানোর কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রেলপথ বসানোর কাজ। উন্নত প্রযুক্তির পাথরবিহীন রেলপথ দিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হবে ট্রেন। সিঙ্গেল লাইনের রেলপথটিতে মিটার গেজ ও ব্রড গেজ—দুই ধরনের ট্রেন চলাচলেরই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

সেতুর ওপরতলায় যানবাহন চলাচলের জন্য থাকবে চার লেনের প্রশস্ত সড়ক। সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে স্প্যানের ওপর বসানো কংক্রিটের স্ল্যাবের ওপর। পুরো সেতুটিতে বসানো হচ্ছে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। গতকাল পর্যন্ত মাত্র ২৯০টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ বাকি ছিল। এসব স্ল্যাবের ওপর নির্মাণ করা সড়ক দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন। আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আর যেদিন পদ্মা সেতু চালু হবে, ঠিক সেদিন থেকেই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চালানোরও লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এজন্য ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে পুরো রেলপথটি নয়, মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশটি চালুর লক্ষ্যে সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, সেতুর সিংহভাগ কাজ শেষ। এখন করা হচ্ছে রোডওয়ে স্ল্যাবের ওপর ডিভাইডার ও রেলিং তৈরির কাজ। কাজটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ডিভাইডার ও রেলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। এখন বর্ষাকাল হওয়ায় পিচ ঢালাইয়ের কাজটি কিছুদিন পর শুরু করা হবে। তার আগে আমরা ডিভাইডার ও রেলিংয়ের কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পিচ ঢালাইয়ের কাজটি শুরু করা সম্ভব হবে। এ কাজ শেষ করতে তিন-চার মাসের মতো সময় লাগতে পারে। গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপনের কাজও শুরু হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *