নাগরিক রিপোর্ট:
করোনায় লকডাউনের প্রথম দিনে গোটা বরিশাল অচল ছিল। যানবাহন বন্ধ থাকায় রোগীবহনেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এদিকে কাজ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি কস্টে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেনী। তবে নগরী জুড়ে আইনশৃংখলাবাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, করোনা রোধে লকডাউনের প্রথম দিনে বিভাগে রেকর্ডসংখ্যক ২৮৬জন আক্রান্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর মধ্য থেকে বয়ে যাওয়া ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে একেবারে ফাঁকা। যানবাহন চলাচল ছিল বন্ধ। মোড়ে মোড়ে দেখা গেছে পুলিশী তৎপরতা। বিধিনিষেধের মধ্যে কোথাও কঠোরতা আবার কোথাও ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা গেছে নগরীতে। সড়কের কোথাও যাচাই-বাছাই করে ছোট যানবাহন ছাড়া হলেও, অন্য সড়কে অহরহ চলতে দেখা গেছে নানা ধরনের যান।
এক সড়কে পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকলেও অন্য সড়কে নেই তেমন কোনো তৎপরতা। নগরীর সদর রোড, কাকলির মোড়, সাগরদী পোল, হাসপাতাল রোডসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে সীমিত পরিসরে যানবাহন চলতে দেখা গেছে।
হৃদয় হোসেন নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন, তার আতœীয় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি। যানবাহন নেই। রিকশা ভাড়াও বেশি। তাই হেঁটেহেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স এ চড়ে অনেকে এসেছেন। তাদেরও নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে সকালের দিকে নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য আড়ত ও সিটি মার্কেট কাঁচা বাজারে ছিল ভীর। সেখানে করোনা রোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সকাল ১১টায় বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দীন হায়দারের নেতৃত্বে প্রশাসন বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, এখন থেকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনকালে জেল-জরিমানা করা হবে, কোন ছাড় দেয়া হবে না। নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে আতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ২০জন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট দায়ীত্ব পালন করবেন। তিনি আরো বলেন, বরিশালে মাঠে সেনাবাহিনী ও বিজিবির টিমও কাজ করবেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খানকেও নগরীর বিভিন্ন স্পস্ট পরিদর্শন করে লকডাউন কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, নগরীর রুপাতলী বাসস্টান্ড, চৌমাথা, কালিজিরা, বাংলা বাজার সহ নগরীর অন্তত জনবহুল এলাকায় আমাদের ১০টি মোবাইল টিম সহ ৮টি চেক পোষ্ট মোতায়েন রয়েছে।
