রিমান্ডে নারী আসামীকে নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : হত্যা মামলার নারী আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আখতারুজ্জামান। ডিআইজি জানান, রেঞ্জ অফিসের পুলিশ সুপার সোয়াইব হোসেনকে প্রধান করে গঠন করা তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হলেন, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন। এ কমিটিকে ৩দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা.সাইফুল ইসলাম রোববার বিকালে বলেন, ওই নারী আসামীর শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই আাসমীকে নির্যাতন করা হয়েছে কি-না সে ব্যাপারে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
একটি হত্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে এক নারী আসামিকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উজিরপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে । শুক্রবার আদালত ওই নারীকে চিকিৎসা প্রদান ও যৌন নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই নারী আসামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান জানান শুক্রবার রিমান্ড শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম উজিরপুর আমলি আদালতে ওই নারীকে তোলা হলে তিনি অভিযোগ করেন, রিমান্ডে তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক মাহফুজুর রহমান এক নারী কনস্টেবল দিয়ে পরীক্ষা করে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান।
অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান আরও জানান, ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী টুলু নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বরুন চক্রবর্তী ওইদিনই উজিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় এক নারীকে (মিতু ভাংড়া) ২৬ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ জুন বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম উজিরপুর আমলি আদালত ওই নারীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হয়েছিল। এ সময় তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। এর কারণ জানতে চান বিচারক মাহফুজুর রহমান। তিনি আদালতকে জানান, রিমান্ডে পুলিশ তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হেফাজতে আসামি মারা যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে আমার মক্কেলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আদালত দুই দিনের রিমান্ড দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক এবং স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করেছে, যা যৌন নির্যাতনের শামিল। আমরা এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।
ওই নারীর ভাই উত্তম ভাংড়া বলেন, ‘আমার বোনকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উজিরপুর থানার পরিদর্শক মাইনুল হোসেন ও এক নারী কনস্টেবল। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিদর্শক মাইনুল হোসেন।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান বলেন, ‘থানায় রিমান্ডের সময় ওই নারীকে শারীরিক বা যৌন নির্যাতন করা হয়নি। রিমান্ডে নিলে সবাই পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে।###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *