ঘর নির্মানে বরাদ্ধ ও সময় ছিল সীমিত!

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
মুজিবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় নির্মিত ও নির্মানাধীন ঘরগুলোর নির্মান কাজ পর্যবেক্ষন করতে গঠন করা হয়েছে ৫ কমিটি। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বৃহস্পতিবার ওই ৫ কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিগুলোকে ৭ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মানে ত্রæটির নানা সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর এ সংবাদ সম্মেলন করলো প্রশাসন।


শনিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে বরিশাল জেলায় চলমান জমি ও গৃহহীনদের ঘর প্রদান কার্যক্রমের তথ্য সাংবাদিকদের অবহিত করতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল।


সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল দাবী করেন, গৃহহীনদের ঘর নির্মানে বরাদ্ধ ছিল সীমিত, সময়ও দেয়া হয়েছে মাত্র ২ মাস। এই সময়ের মধ্যে ঘর করতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। তবে ঘর নির্মান করতে গিয়ে সরকারের অনেক খাস জমি উদ্ধার হয়েছে। এরপরও ঘরের মান যাচাই করার জন্য কারিগরি টিম গঠন করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত ও নির্মানাধীন ঘরগুলোর নির্মান শৈলী, গুনগত মান, অনুমোদিত ডিজাইন ও প্রাক্কালন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই ও পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ও বানারীপাড়া উপজেলায় নির্মানাধীন ঘরের পর্যবেক্ষন কার্যক্রমের প্রধান করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. শহিদুল ইসলামকে। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার পর্যবেক্ষন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস, বরিশাল সদর ও উজিরপুর উপজেলার জন্য গঠিত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট গৌতম বাড়ৈ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলা কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রকিবুর রহমান খান এবং বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সোহেল মারুফ।


পর্যবেক্ষন কার্যক্রমে সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং গৃহনির্মান সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যদের সার্বিক সহযোগীতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।


বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় প্রথম ধাপে এক হাজার ৯টি ঘর উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম ধাপের আরও ৫৪৭টি ঘর নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে হস্তান্তর করা হয়েছে ২১৮টি ঘর। শেষের পথে আরও ৩৩১টি ঘর নির্মান কাজ।


সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, জেলার সকল উপকারভোগী পরিবার সদস্যদের আয়বর্ধক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় নেওয়া হবে। যাতে তারা সমাজের মুল ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে জীবনমানে উন্নয়নে সক্ষম হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *