নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের উজিরপুরে সমাজসেবা অফিস ঘেরাও করেছে সুবিধা বঞ্চিত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার হতদরিদ্র গ্রাহকরা। রবিবার বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র সদস্যরা উপজেলা চত্বরে এসে সমাজসেবা অফিসে অবস্থান নেন। তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায় সমস্যা সমাধানের ভোগান্তিতে পড়তে হয় সদস্যদের। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু তাদের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ভাতাভোগী সদস্যদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার সদস্যরা এমআইএস ফরম পূরণ করে নগদ একাউন্টের মোবাইল নম্বর দেয়ার পরেও অন্য নম্বরে টাকা প্রবেশের কারনে তারা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন অফিসে ধর্ণা দিয়েও তারা এর কোন সমাধান পাননি।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বিধবা ভাতার গ্রাহক খুকু রানী দাস জানান, তার ভাতার প্রথম কিস্তি ৩ হাজার টাকা আসার কথা থাকলেও অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ০১৭৯১৬২৬০২৮ নম্বরে টাকা চলে গেছে। কিন্তু তার প্রকৃত নম্বর দেয়া ছিল ০১৯৫৯৮৪৪১৭৮। ৭নং ওয়ার্ডের হাসিনা বেগম এর বই নম্বর ১৭৭২, হেনা বেগমের বই নম্বর ২৬১৫। অথচ তারা কোন টাকা পাননি।
এ ছাড়া জল্লা ইউনিয়নের বিধবা প্রমিলা পান্ডে তার মোবাইল নম্বর ০১৭৫৩৩১৮৫৫১। কিন্তু টাকা চলে গেছে ০১৭২৮৮৬৩৬৬২ নম্বরে। বয়স্ক ভাতাভোগী অমল বাড়ৈর নগদ একাউন্ট নম্বর ০১৩০৫৩৫৪২৯১ কিন্তু টাকা চলে গেছে ০১৩১৭০১১৮০৯ নম্বরে। ফুলমালা টাকার নগদ একাউন্ট নম্বর ০১৮৪৫৬৫২৩৭৭ টাকা ঢুকেছে ০১৮৭৫৬৫২৩৭৭ নম্বরে। প্রতিবন্ধী মিরা রানী সরকার, বয়স্ক ভাতার ফটিক পান্ডে তারা কোন টাকা পাননি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রাহকদের নিজেদের কারণেও কিছু ভুল ভ্রান্তি হয়েছে। বিষয়টি দ্রæত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু সুবিধাভোগীরা ভাতা যাতে সুষ্ঠু ভাবে পেতে পারে সে বিষয়ে সমাজসেবা অফিসের সাথে কথা বলেলেছেন। অসহায় সুবিধা বঞ্চিত গ্রাহকদের সমস্যা নিরুপন করে দ্রæত সমাধানের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
