পানির দরে চামড়া বিক্রি

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালে কোরবানীর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে তেমন একটা তোড়জোড় ছিল না ব্যবসায়ীদের মাঝে। এর কারন ব্যবসায়ীদের পুজি সংকট। যে চামড়া সংগ্রহ হয়েছে তার একটা অংশ বাকিতে কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে চামড়ারা বাজারে ধবস নামায় এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। চামড়া সংগ্রহকারীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারী দর অনুযায়ী নয় বরং নামমাত্র মুল্যে চামড়ার পিস বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন ব্যবসাযীরা।


জানা গেছে, প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকার বাইরে সারাদেশে ৩৩-৩৭ টাকা। খাসি সারাদেশে ১৫-১৭ টাকা, বকরি সারাদেশ ১২-১৪ টাকা দর নির্ধারিত করা হয়। কিন্তু বরিশালে তা পুরোটাই উপেক্ষিত ছিল।


বরিশালের ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দর না থাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করেনি। তবে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এতিমখানার লোকজন চামড়া নিয়ে এসেছেন পাইকারদের কাছে।

এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হয়ে বাজারে চামড়া নিয়ে আসা ব্যক্তিরা বলছেন, দর না থাকায় তারাও তেমন একটা চামড়া ক্রয় করেননি। বেশিরভাগ চামড়াই এলাকা ভিত্তিকভাবে বিনামূল্যে সংগ্রহ করছেন। তবে সেসব চামড়া সংগ্রহ করে বাজার পর্যন্ত আনতে যানবাহনের যে ব্যয় হচ্ছে তাও এখন দিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।


বরিশাল নগরীর কলেজ এভিনিউ এলাকার একটি মাদ্রাসার চামড়া সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহাদাৎ হোসেন জানান, ব্যবসায়ীরা চামড়া সরকারি রেট অনুযায়ী নয়, নামমাত্র মুল্যে পিস আকারে নিয়েছেন। পানির দরে চামড়া বিক্রির এমন অভিযোগ অধিকাংশেরই।


এপ্রসঙ্গে বরিশালের পদ্মাবতী এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মোঃ শামিম উল্লা সাংবাদিকদের বলেন, এবারে চামড়া সংগ্রহের কোন ইচ্ছাই ছিলো না। তবে যারা বিগত সময়ে বিশ্বাস করে চামড়া দিয়েছেন তাদের ফোনে আসতে বাধ্য হয়েছি। ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকা আটকে থাকায় এখন নিজের কাছে থাকা ও ধার করা সামান্য কিছু টাকা নিয়ে চামড়া কিনেছেন।


তিনি বলেন, বরিশালে সর্বোচ্চ ১৮ ফুটের ওপরে চামড়া পাওয়া যায়না। যেকারনে চামড়ার দর আলোচনা করে ঠিক করে কিনতে হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত রেটে কেনা যায়নি। একটি চামড়ার দর ৪শ টাকা হলেও ৫০ টাকা কমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। কারন পুজি সল্পতার কারনে চামড়া কেনার পাশাপাশি তা সরবরাহ করে লবন দিয়ে রাখার ব্যয়ের বিষয়টিও হিসেব করতে হচ্ছে।


এব্যপারে বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাছির শুক্রবার বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা আটকে যাওয়ায় এবং ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ায় এখন অনেকে ব্যবসার ধরনও পাল্টে ফেলেছেন। এবার হিসেব কষলে মাত্র কয়েকজনে চামড়া সংগ্রহ করেছেন।


তিনি বলেন, বাকিতে আর নগদ মিলিয়ে নিজে সর্বোচ্চ ৬ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করতে পেড়েছেন। ঈদের আগে যদি ট্যানারি মালিকরা পাওনা থেকে কিছু টাকা দিতো তাহলে হয়তো আরো চামড়া সংগ্রহ করতে পারতেন। এবারে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের থেকে মাদ্রাসার লোকজনই চামড়া নিয়ে আসছেন। তিনি স্বীকার করেন সরকারি রেটে চামড়া কিনতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *