নাগরিক রিপোর্ট : করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হলো বরিশালে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও ১৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় বিভাগের ছয় জেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯৮ জন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শেবাচিম হাসপাতাল সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে একদিনে বরিশালে সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল গত ১২ জুলাই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগে মোট দুই হাজার ১৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৯৮ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভোলায় ৬ জন, বরিশালে ৪জন, পটুয়াখালীতে ২ জন এবং পিরোজপুরে ১জন মারা গেছেন। বিভাগে একদিনে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৮৬।
শেবাচিম হাসপাতালের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা জাকারিয়া খান স্বপন জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৮ জন রোগী মারা গেছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা।
ভোলা জেলায় এ যাবতকালের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যুসহ বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৪০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৬০ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৭০ ভাগ।
সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেশী বরিশালে। জেলায় শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৩৮ ভাগ। ৬৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৮২ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
পিরোজপুর ঝালকাঠীতে শনাক্তের যথাক্রমে ৩০ দশমিক ৮৩ ভাগ এবং ৩০ দশমিক ৮৫ ভাগ। পিরোজপুরে ২৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮২ জন এবং ঝালকাঠীতে ২০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮২ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
পটুয়াখালীতে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৯৩ ভাগ। জেলায় ৪০৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২৯ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। বরগুনায় ২৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হন ৮৩ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ৪৪ ভাগ।
অপরদিকে শেবাচিম হাসপতাল সুত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতারের আরটিপিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৫ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫৫ দশমিক ৮৫ ভাগ। শেবাচিম হাসপতালের ৩০০ শয্যার করোনা ইউনিটে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। যার মধ্যে ১১৪ জন পজিটিভ শনাক্ত।##
২০২১-০৮-০২
