গৌরনদীতে ১৪ দোকানে গণডাকাতি, ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের গৌরনদীতে ১৪টি দোকানসহ গণ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। গতকাল রোববার ভোররাত তিনটা থেকে উপজেলার টরকী বন্দরে এ গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ওই দোকানগুলো থেকে নগদ ২৫ লক্ষাধিক টাকাসহ ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। টরকী বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাফপ্যান্ট, গেঞ্জি ও মাক্স পড়া সংঘবব্ধ ৩০/৩৫ জন ডাকাত গতকাল রোববার ভোররাত ৩টার দিকে ঐতিহ্যবাহী টরকী বন্দরের রায়পট্টির পাহারাদার আকবর(৬৫), করমালী (৭৫)কে জিম্মি করে বেঁধে রাখে। এ সময় মুখোশধারী ২/৩ ডাকাত গোবিন্দ সাহা ষ্টোরের শাটার ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দোকান মালিকের পুত্র মানিক সাহা (২৪) কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্সের তালা ভেঙ্গে নগদ ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।


এরপর ডাকাতরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে একযোগে তালুকদার মেডিকেল হল, এমআর ওয়েল মিল, মেসার্স মোল্লা এন্ড ব্রাদার্স, মেসার্স বাদল এন্টারপ্রাইজ, পূণ্য রায় স্টোর, গোলক রায় স্টোর, পপন রায় স্টোর, জাকির কাজী স্টোর, আমিনুল ফল ভান্ডার, পরিমল স্টোরসহ ১৩টি দোকানের তালা ও দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ ক্যাশ বাক্স ভেঙ্গে নগদ ১৫ লক্ষাধিক টাকা ও সিগারেটসহ ১৭ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।


ঘটনাস্থল দিয়ে যাবার সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টরকীর চর এলাকার হাসান হাওলাদারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, শ্যামল মন্ডলের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা, মিতুলের কাছ থেকে ১০ হাজার, মাছ ব্যবসায়ী কালকিনি উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের ছালেক সরদারের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, আন্ডারচর গ্রারেম টিপু মোল্লার কাছ থেকে সাড়ে ২৩ হাজার, সবুজ মোল্লার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, সিডিখান গ্রামের শিপন হাওলাদারের কাছ থেকে ১৭হাজার, আরিফের কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, ছালাম ঢালীর কাছ থেকে ১৪ হাজার, দিন ইসলামের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার জানান, পালরদী নদী পথে একটি ট্্রলার যোগে ৩০/৩৫ জনের একদল ডাকাত গতকাল রোববার ভোররাত তিনটার দিকে টরকী বন্দরে আসে। এরপর ডাকাতরা ২ নৈশ প্রহরীকে বেঁধে ১৪টি দোকানের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ প্রায় ২০ লাখা টাকা ও সিগারেটসহ ২০/২৫ লক্ষাধিক টাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


টরকী বন্দর বনিক সমিতির সভাপতি এইচ.এম রাজু আহম্মেদ হারুন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা এটা আশা করিনি। টরকী বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রায়পট্টি রোড়ে নৈশ টহল দিয়ে আসার ৫মিনিট পরেই ডাকাতি শুরু হয়। খবর পেয়ে টরকী বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির নেশ টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর কিছুক্ষন পূর্বে ডাকাত দল ট্রলার যোগে পালিয়ে যায়। ডাকাত দলের এক সদস্য একটি মোবাইল ফোন লেলে গেছে। থানা পুলিশ ফেলে যাওয়া মোবাইলটি উদ্ধার করেছে। ওই মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরেই ডাকাত শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেস্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *