নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং সিলিন্ডার মিটার উধাও হয়ে গেছে। এটি তদন্তে দুই দফায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম দফায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে দাবী করেছে ৪৪টি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শুরু থেকেই ১০০ সিলিন্ডার এবং ৪০টি মিটার উধাও হওয়ার অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পাশাপাশি উচ্চতর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, হাসপাতালে মোট ৬১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল।
এদিকে সিলিন্ডার উধাও হওয়া নিয়ে তোলপাড় ঘটছে সেখানে। সেখানকার অন্যসব মালামালের হিসেব নিতে চলছে সার্ভে। এ ঘটনায় ফেসেঁ যেতে পারেন করোনা ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন বেপরোয়া ও দুর্নীতিবাজ স্টাফ বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মিটার উধাও এর ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. নাজমুল হোসেন, ডা. মাহমুদ হোসেন, সেবা তত্ত¡বধায়ক সেলিনা আক্তার এবং স্টোর অফিসার অনামিকা দাস।
ওই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ৪৪টি অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জকে সরিয়ে অন্য আর একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা: আ: রাজ্জাককে প্রধান করে উচ্চতর আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর গোটা করোনা ওয়ার্ডের মালামালের হিসেব নিতে চলছে সার্ভে।
এদিকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের তথ্যমতে, গত সপ্তাহ আগে করোনা ইউনিট থেকে সিলিন্ডার ও মিটারগুলো উধাও হয়ে গেছে। রবিবার এ বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে সন্ধান চালিয়ে উধাও হওয়া কোন সিলিন্ডার ও মিটার উদ্ধার করা করা সম্ভব হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় ঘটে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে।
শেবাচিম হাসপাতালের স্টোর রুমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সুত্রে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহ করা হয়। কোন ওয়ার্ডে কতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার নেওয়া হয়েছে তার তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ড তল্লাশি করে অন্তত ১০০টি সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস পাওয়া যায়নি। সাধারণ ওয়ার্ডেও সেগুলোর খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
অপর একটি সুত্র জানায়, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কেবল অক্সিজেন সিলিন্ডার নয়, বরং অন্যসব মালামালের হিসাব নিতেও তৎপর হয়ে উঠেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন স্টাফ ফেঁসে যেতে পারে বলে জানা গেছে। সুত্রমতে, সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়াকালে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে স্টাফদের দায়িত্ব অবহেলা, রোগীদের সাথে অসাদাচরন, মারধরের ঘটনাও ঘটে। স্টাফদের বিরুদ্ধে অবহেলায় রোগী মৃত্যুরও অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে হাসপাতালে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। কিন্তু এসব ঘটনায় হাসপাতালের বেপরোয়া এসব স্টাফদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
হাসপাতালের সেবা তত্ত¡াবধায়ক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সেলিনা আক্তার জানান, করোনা ওয়ার্ডের ১০০ সিলিন্ডার ও ৩০ মিটার পাওয়া যাচ্ছে না।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত সপ্তাহে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মিটারের সন্ধান চালানো হচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত উধাও হওয়া সিলিন্ডার ও মিটারের সন্ধান মেলেনি বলে জানান তিনি।
এসব ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা: এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, উচ্চতর এ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য সব মালামালের সার্ভে চলছে।
