খননেও বন্ধ হয়নি তেতুলিয়া-কালাবদরের ভাঙ্গন

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : পানির প্রবাহপথ বাঁধাহীন করে ভাঙ্গনরোধ করার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালাবদল-তেতুলিয়া নদীর চ্যানেল খনন করা হয়েছে। এতে কিছ্ইু কাজ হয়নি। ভাঙ্গনের তীব্রতা রয়েছে আগের মতোই। প্রতিদিনই একের পর এক জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। নিশ্চিহৃ হচ্ছেছ বসতবাড়িসহ হাট-বাজার, সাইক্লোন সেল্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। ভাঙ্গনকবলিত শত শত মানুষ সহায়সম্বল হারিয়ে নতুন করে জেগে ওঠা নতুন চরে উদ্বাস্তের মতো আশ্রয় নিচ্ছেন।
শ্রীপুর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেন জানান, শ্রীপুর ইউনিয়টি চারদিকে কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীদিয়ে বেষ্টিত। গত একযুগের অব্যাহত ভাঙ্গনে ইউনিয়নের মানচিত্রই বদল হয়ে গেছে। ৩টি ওয়ার্ড পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় মানুষ পাশর্^বর্তী জেগে ওঠা চরে নতুন জনপদের সৃষ্টি হয়েছে। এখনও ভাঙ্গনকবলিত মানুষগুলো ওই চরে আশ্রয় নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন টিটু জানান, শ্রীপুর ও পাশর্^বর্তী চরগোপালপুর ইউনিয়ন রক্ষায় মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হলেও সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ না নেয়ায় হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সবগুলো ভাঙ্গন কবলিত। কয়েক হাজার পরিবার বাসিন্দা বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছেন। ভিটেমাটি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙ্গনে শ্রীপুর বাজারের ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকা শতাধিক দোকানপাট বিলীন হয়ে গেছে। ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাহেরচরের ফজলে করিম হাওলাদারর বাড়ি, কাঞ্চ খন্দকার, কাদের হাওলাদারের বাড়ির ২০ একর ও ১নং ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহেদ মোল্লা, আলতাফ উদ্দিন কাজী, এনায়েত উল্লাহ কাজীর ২৫ একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, বাজার বিলীন হয়ে শ্রীপুরে নির্মানাধীন সাইক্লোন শেল্টার, পুরাতন সাইক্লোন শেল্টার নদীতে চলে গেছে। লঞ্চঘাটও বিলীনের পথে। বাহেরচর শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর কমিউনিটি ক্লিনিক, শ্রীপুর এ রব দাখিল মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা, মসজিদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরফেনুয়া শ্রীপুর মহিষা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টার, ১নং ওয়ার্ডের চরবগি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টার, নদী গর্ভে নিশ্চিহৃ হয়ে গেছে।
বসতী হারিয়ে চরে আশ্রয় নেয়া একাধিক বাসিন্দা বলেন, তাদের বাড়িঘর কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীতে চলে গেছে। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে চরে গিয়ে থাকতে হচ্ছে।
পার্শবর্তী চরগোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামসুল বাড়ি মনির জানান, অব্যাহত ভাঙ্গনে চরগোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি গত বছরের ২৪ অক্টোবর শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গন পরিদর্শনকালে ভাঙ্গনের তীব্রতা রোধে নদীর চ্যানেল খনন করার নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে সেখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ সম্পন্ন করে চ্যানেল দিয়ে বাঁধাহীনভাবে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়।
এব্যপারে পাউবোর দক্ষিণাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের জানান, শ্রীপুরের ভাঙ্গনরোধে গত বছরের অক্টোবরে নদীর চ্যানেল খনন করা হয়েছে। বর্তমানে চ্যানেলটি কার্যক্ষম রয়েছে। পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *