ভাঙন আতংক গোপালপুর-জাঙ্গালিয়ায়

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
কালাবদর, তেতুলিয়া, মাসকাটা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবেলে পড়েছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়ন। উপজেলার গোপালপুর ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে এখন কেবলই নদী ভাঙন আতংক। হুমকীর মুখে পড়েছে এ দুটি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িসহ ফসলী জমি। আমাবশ্যার জোয়ারো পানি টেনে যাওয়ায় ভাঙ্গনের তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান। যার ফলে ঘুম হারাম হয়ে গেছে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের।

মেহেন্দীগঞ্জের চরগোপালপুর ইউপির বাসিন্দাদের কান্না হয়ে দাড়িয়েছে কালাবদর, তেতুলিয়া ও মাসকাটা নদী। এখানকার কয়েকটি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা অন্যত্র চলে গেছে। অনেকে আবার আমাবশ্যার জোয়ারের পানি টেনে যাওয়ায় ভাঙন আতংকে পড়েছে। গোপলপুরের বাসিন্দা হাওলাদার জাহাঙ্গির আলম বলেন, অনেক স্মূতি বিজড়িত লেঙ্গুটিয়া বিদ্যালয়টিতে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টি কেটেছে। এই বিদ্যালয়টি বিলিন হয়ে যাওয়া মানে দক্ষিণ পাড়ের ঐতিহ্য বিলিন হয়ে যাওয়া।

জানতে চাইলে চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল বারী মনির বলেন, এখানকার সেরা বিদ্যাপীঠ লেংগুটিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙ্গনের কয়েক হাত দুরে রয়েছে। চরগোপালপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এর দ্বিতল ভবন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাসকাটা নদীর ভাঙ্গনে চরগোপালপুরের মিটুয়া খেয়াঘাটের পাকা রাস্তার মাথায় নির্মিত যাত্রী ছাউনি স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পশ্চিম কাজীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীর ভাঙ্গনের হুমকীতে। তার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের তিনটি যথাক্রমে ৬, ৭, ৮ নং ওয়ার্ড বিলীন হয়ে গেছে। জয়নপুর হুজের খানকাে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আর ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ার হিসেব নেই। ইউপি চেয়ারম্যান মনির আক্ষেপ করে বলেন, গত বছর কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিন্তু তার অস্তিত্ব এখন আর নেই। দীর্ঘমেয়াদী বড় পরিকল্পনা ছাড়া চরগোপালপুর রক্ষা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলার আর এক ইউনিয়ন জাঙ্গালিয়াকে ধীরে ধীরে গিলছে মাসকাটা, তেতুলিয়া, কালাবদর নদী। বিলীন হয়ে গেছে একের পর এক কাঁচা-পাকা সড়কসহ বসতভিটা ও ফসলি জমি। সেখানকার আমীরগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নদীতে একাংশ চলে গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার দাস বলেন, এ বিদ্যালয়টি সহ বেশ কয়েকটি টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে মাসকাটা নদীর তান্ডবে বিলীনের পথে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকা, মিটুয়া খেয়াঘাট। এ নদীর ভাঙ্গনের কারনে খেয়াঘাটটি হুমকীতে পড়ায় চরগোপালপুর ও জাঙ্গালিয়া দুটি ইউনিয়নের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধের পথে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে জাঙ্গালিয়ায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ভাঙ্গন আতংকে পরিবারগুলো নির্ঘুম রাত কাটচ্ছেন। এছাড়াও বিলীন হতে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদরাসাসহ বহু স্থাপনা। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গনরোধে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

এ প্রসঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফরাজী বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়টি তিনি প্রশাসনকে অবগত করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যেকারনে তার এলাকার বহু পরিবার আতংকিত।

এব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেহেন্দীগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানান, চরগোপালপুর ও জাঙ্গালিয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে তারা মন্ত্রনালয়ে প্রকল্প আকারে বরাদ্ধ চেয়েছেন। ওইসব এলাকার ভাঙ্গনের বিষয়টি তাদের নজরে আছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলে প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *