প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বরিশালে আ’লীগের দুইপক্ষের পৃথক কর্মসুচী

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন নিয়ে প্রকাশ্যে হয়ে পড়েছে বরিশাল আওয়ামীলীগের দুই বলয়ের বিভেদ। এক বলয়ের নেতৃত্বে আছেন নগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অপর বলয়ের মধ্যমনি বরিশাল- ৫ (মহানগর-সদর) আসনের সাংসদ জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম। উভয়পক্ষ গত এক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের জন্য কর্মীসভা, বর্ধিতসভা, ঘরোয়া আলোচনাসহ নানা সাংগঠনিক কর্মসূচী পালন করেছেন।
বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বিকালে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত। এ আয়োজনের পুরোভাগে আছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অপরদিকে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সমর্থকরা তাদের কর্মসূচী পালন করবেন নগরীর আলেকান্দা এলাকার নুরিয়া স্কুল মাঠে। বিকালে ওই বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত।
গত ১৮ আগষ্ট রাতে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যানার-ফেষ্টুন অপসারন করতে গেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলা, আনসারদের গুলিবর্ষন এবং পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মেয়র অনুসারী আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইউএনও-পুলিশের মামলায় মেয়রসহ তার অনুসারীরা আসামী হয়ে এখনও অনেকটা কোনঠাসা। ২৭ আগষ্ট আকস্মিক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল থেকে ঢাকায় চলে যান। একমাস ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
মেয়র অনুসারী মহানগর আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ১৮ আগষ্টের অঘটনের পর বড় ধরনের হোচট খায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতি। পাশাপাশি দারুন ইমেজ সংকটে পড়েছেন মেয়র সাদিক। এ সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে মেয়র সাদিক প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনকে ঘিরে নগরে বড় ধরনের শোডাউন করার নির্দেশ দিয়েছেন তার অনুসারীদের। তবে আজকের কর্মসূচীতে মেয়র সাদিক উপস্থিত থাকবেন কি-না তা নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ।
জানতে চাইলে মেয়র অনুসারী মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘শোডাউনের কোন বিষয় নেই। করোনার কারনে দীর্ঘদিন ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে বসা হয়নি। তাদের কথা শুনেছি। কোথায় কি অসুবিধা আছে তা জেনেছি’। আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মেয়র স্বশরীরে অথবা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন।
অপর সহ সভাপতি গাজী নাইমুল ইসলাম লিটু বলেন, দেশের বিপুল উন্নয়ন ও নেত্রীর অর্জনগুলোর বার্তা মাঠ নেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি। আমরা সারম্বরভাবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করতে চাই।
এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওয়ামীলীগ দলীয় ৯ কাউন্সিলরসহ সাবেক কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা ঢাকায় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাত করে নগরের উন্নয়ন এবং দলীয় কর্মকান্ডে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগীতা ও সমর্থন চান। এ বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতিতে নয়া মেরুকরনের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে রাজনীতি সচেতন মহল মনে করেন। সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর রূপাতলী বাস টার্মিনালে সাবেক সিটি কাউন্সিলর ও শ্রমিক লীগ নেতা সুলতান মোল্লার নিজস্ব কার্যালয় উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম। ওইদিন প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকরা রূপাতলীতে মাঝারী শোডাউন করেন।
একইদিন প্রতিমন্ত্রী সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে যান সদ্য প্রয়াত ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ মাষ্টারের কবর জিয়ারত করতে। তিনি প্রয়াত আব্দুল আজিজ মাষ্টারের পরিবারের সদস্যদের শান্তনা জানান। প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এসব সাংগঠনিক কার্যক্রমে মেয়র বিরোধী বলয় তথা প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকরা আরো উজ্জীবিত হয়েছেন বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বলয়ের নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম বরিশাল শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মীর আমিন উদ্দিন মোহন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাগাতার কর্মীসভা করেছি। প্রস্তুতি সভা করেছি প্রতিমন্ত্রীর বাসায়।
জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কর্মসূচী দিয়েছে, আপনারা কেনো আলাদা কর্মসূচী দিলেন এমন প্রশ্ন করা হলে মীর আমিন উদ্দিন মোহন বলেন, আমরা যারা বঞ্চিত তারা সংগঠিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা প্রতিমন্ত্রীর সমর্থক। মীর আমিন উদ্দিন মোহন বলেন, আমরা কোন পরিবারের বন্দনা করতে চাইনা। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বন্দনা করতে চাই। পরিবারতন্ত্রের হাত থেকে বরিশাল আওয়ামীলীগকে রক্ষা করতে হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সমর্থক ৯ সিটি কাউন্সিলর যাতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে পৃথক কর্মসূচীতে অংশগ্রহন না করেন তার জন্য গত দুদিন ধরে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা তাদের ফোন করে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক কাউন্সিলর বলেছেন, তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে আর রাজনীতি করবেন না তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *