নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুলের ভবন দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তিনি সেখানকার ভোকেশনাল পাঠদানের একতলা ভবনে পরিবার নিয়ে উঠেছেন। ওই ভবনে ভোকেশনাল ট্রেডের ১৬৫ জনের ক্লাস চলতো। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নিজেস্ব শ্রেনী কক্ষ থাকা সত্ত্বে অন্য ভবনে গিয়ে তাদের ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবশ্য দাবী করেছেন, তার কোটার সংস্কার করতে হবে, তাই ম্যানেজিং কমিটি ভবনটি থাকার অনুমতি দিয়েছে। তবে ম্যানেজিং কমিটি এমন দাবী নাকচ করে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুলের ভোকেশনাল ট্রেডের শিক্ষক নুরুল হুদা জুয়েল বলেন, তিনটি ট্রেডে ১৩৫ জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে নবম শ্রেনীর ৭৫জন এবং ১০ম শ্রেনীর ৬০জন। তাদের ক্লাস এখন মুল ভবনের নিচতলায় হচ্ছে। ভোকেশনালের এক তলা ভবনে প্রধান শিক্ষক পরিবার নিয়ে থাকেন। কারন তার কোয়াটার সংস্কার হবে। ভবনটির এক পাশে ভোকেশনালের কাগজপত্র, ইকুপমেন্ট ও বইপত্র রয়েছে এবং অপর পাশে প্রধান শিক্ষক বসবাস করছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক সুত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বাকেরগঞ্জে নিজেস্ব বাড়ি রয়েছে। এরপরও ক্লাস রুম দখল করে গত বছর করোনার পর থেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যালয় সংলগ্ন ৪ নং কাউন্সিলর মো: সেলিম বলেন, প্রধান শিক্ষকের তো কোয়াটার আছে, তার শ্রেনীকক্ষে থাকার কথা নয়।
জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, তার বিদ্যালয়ে ৩টি ট্রেডে ভকেশনাল ছাত্র-ছাত্রী আছে। এই শিক্ষার্থীদের ক্লাস ভোকেশনাল ভবনে হতো। কিন্তু শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মডেল ভবনে ক্লাস হয়।
ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ভবনে তিনি আপাতত ৭-৮ মাস ধরে বসবাস করছেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুল প্রাঙ্গনেই তার কোয়াটার আছে। কিন্তু সেটি সংস্কার করতে হবে। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন কি না এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ হাবিবুর বলেন, ‘জি পরিবার নিয়ে থাকি।’ ওই ভবন শুধু ক্লাশ রুম হিসেবেই ব্যবহার হতো। কোয়াটার সংস্কান করতে হবে তাই ম্যানেজিং কমিটি রেজ্যুলেশন করে তাকে আপাতত সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছে।
তবে বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের তো আলাদা বাসাই আছে, কেন ক্লাস রুমে পরিবার নিয়ে থাকবেন। তিনি ভোকেশনাল ভবনের শ্রেনী কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকেন এমনটা তার জানা নেই। কমিটির সভায় তাকে (প্রধান শিক্ষক) ক্লাস রুমে থাকার জন্য কোন রেজ্যুলেশনও করা হয়নি। মেয়র বলেন, তিনি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন।
এব্যপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকমল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক কেন ক্লাশ রুমে বসবাস করবে, এটা তো পারে না। তিনি এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলবেন।
