সৈয়দ জুয়েল:
পুলিশ কনষ্টেবল পদে আবেদন করেছিলেন বরিশালের আসপিয়া ইসলাম। সপ্তম স্তরে মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েও শুধু মাত্র “ভূমিহীন” হওয়ায় তার চাকরি হবেনা বলে জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য আসপিয়া বরিশাল পুলিশ লাইনস এর গেটের বাহিরে বসে থাকেন। তার এ বসে থাকার ছবিটা ইতিমধ্যে সব ধরনের গন মাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
বিষয়টি নিয়ে গনমাধ্যমে মানবিকতার অনেক রিপোর্ট তৈরি হয়।
প্রশ্ন হলো সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরও শুধুমাত্র ভূমিহীন হওয়ায় রাষ্ট্রের একজন নাগরিক কেন চাকরি পাবেনা! ১৯৫০ সালের ষ্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এ্যাক্টের ৭৬ ধারার ১ উপধারায় খাস জমি,যেগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন থাকে সেগুলো সরকার প্রনীত পদ্ধতি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান রয়েছে। এ আইনের আওতায় অনেকেই অতীতে জমি পেয়েছেন। হয়তো এই একজন আসপিয়াও এ বন্দোবস্তের আওতায় পরে তার সমাধান হবে।
কিন্তু এরকম হাজারো আসপিয়ারা রয়েছেন যাদের যোগ্যতা থাকা সত্বেও পিছিয়ে পরছেন। একটু মাথা গোঁজার আশ্রয় খুঁজতে নানা কাঠখড় পেড়িয়ে যখন স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন,তখনও তাদের সামনে”ভূমিহীন”হওয়ায় হারিয়ে যান তারা।”আসপিয়ারা”তাহলে কার দ্বারস্থ হবেন! যে মেয়েটি আজ অসহায় চোখে ভূমিহীনের খেতাব পেয়ে লজ্জিত হলো,সে লজ্জা পুরো জাতির। সমাজের ভেতর এসব আসপিয়ারা একটু সুযোগ পেলে ঘুনে ধরা পুরো সমাজ ব্যাবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতো,যেখানে মানুষে মানুষে ভেভাভেদের দূরত্ব অনেকটা কমে যেত। কারন আসপিয়ারাই জানে
জীবনের প্রতিটি বাঁক কত কঠিন। জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে এরাই যখন গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে থাকবেন তখন দূর্নীতি,ক্ষমতার অপ ব্যাবহার রোধে এরাই নেতৃত্ব দিবে সামনে থেকে। চাকুরী ক্ষেত্রে ভূমিহীনদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হলে দেশে ভূমিহীন বলে কেউ থাকবে বলে মনে হয়না। গনতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থায় কেউ শত একরের মালিক,কেউ গৃহহীন বড়ই বেমানান।

দেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র বিমোচনে গৃহ হীনদের যত বেশি কর্ম সংস্থানের সুযোগ দেয়া হবে,তত দ্রুতই সোনার বাংলা গঠন সহজ হবে। কোন আসপিয়াদেরই যেন আর রাস্তার পাশে বসে তার যোগ্যতা থাকার পরেও চাকুরি কেন হবেনা! তা নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন না করেন। ভেবে দেখার এখনই সময়।
