নাগরিক রিপোর্ট : ড. শাম্মি আহমেদ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। জাতীয় রাজনীতিতে দলের গুরুত্বপূর্ন নেতা। ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামীলীগের বিগত কমিটির সাধারন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ রাজধানীকেন্দ্রীক রাজনীতিতে প্রভাবশালী। দুজনেরই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সন্তান। মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা নিয়ে গঠিত বরিশাল- ৪ সংসদীয় আসনে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা ছিলনা। স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের পক্ষে-বিপক্ষ দুই পক্ষের বিরোধেও তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় দেখা যায়নি।
রোববার মেহেন্দিগঞ্জে ও সোমবার হিজলায় বিশাল শোডাউন করেছেন কেন্দ্রের এ দুই প্রভাবশালী নেতা। হাজার হাজার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী তাদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেন। স্থানীয়দের মতে, মেহেন্দিগঞ্জে স্মরনকালের মধ্যে বড় শোডাউন হয়েছে।
রোববার সকালে পাতারহাট মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ও বিকালে উলানিয়া ইউনিয়ন ঈদগাহ মাঠে এবং সোমবার হিজলায় পৃথক সভায় ড. শাম্মি আহমেদ প্রধান অতিথি ও শাহে আলম মুরাদ বিশেষ অতিথি হিসাবে অংশগ্রহন করেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তালুকদার ইউনুসও ছিলেন এসব কর্মসূচীতে অংশগ্রহন।
মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলায় এসব কর্মসূচীর আয়োজক স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ বিরোধী গ্রুপ। তারা স্থানীয়ভাবে ‘বরিশাইল্লা আওয়ামীলীগ’ (জেলা কমিটির সমর্থক) নামে পরিচিত। এমপি’র অনুসারী নেতাকর্মীরা ছিলেন অনুপস্থিত। ড. শাম্মি আহমেদ ও শাহে আলম মুরাদকে সামনে রেখে এমপি পংকজ নাথ বিরোধী গ্রুপের বড় কর্মসূচীতে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে নানামুখী গুঞ্জন চলছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বরিশাল- ৪ আসনে নতুন মেরুকরনের আভাস বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। সমাবেশে সাংসদ পংকজ নাথের নামোল্লেখ না করে বক্তারা বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। বিএনপি নয়, আওয়ামীলীগ নেতাকমীরই এখানে নির্যাতিত হচ্ছেন’
ড. শাম্মি ও শাহে আলম সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেলা ১১টার দিকে স্পীডবোটে মেহেন্দিগঞ্জে পৌছেন। তার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী লঞ্চঘাটে অবস্থান করছিলেন। তাদের নিয়ে দুই অতিথি পায়ে হেটে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সমাবেশস্থলে যান। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগ ব্যানারে আলোচনা সভা হলেও তা জনসভায় পরিনত হয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মঈদুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। একই উপলক্ষে বিকালে উলানিয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসব সমাবেশে ড. শাম্মি আহমেদ বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জ আবার বাবার সংসদীয় আসন (তার বাবা মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদ ১৯৭০ ও ১৯৯১ এর সংসদ সদস্য, মুকিযুদ্ধের সংগঠক ও আমৃত্যু জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন)। আমি মেহেন্দিগঞ্জবাসীর পাশে আছি-থাকবো। এখানে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতিত হতে দেখে বুকে রক্তক্ষরন হয়। কেউ যদি আপনাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাকে ‘না’ বলুন’।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, ‘শাম্মি আহমেদ এসেছে, মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলাবাসী জেগেছে। তাদের আবার নতুনভাবে সংগঠিত হতে হবে। তিনি বলেন, পিছনের অত্যাচারী ও অত্যাচার ভুলে নতুন করে সংগঠিত হতে হবে’।
ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘যারা সংগঠনে বিশৃংখলা সৃস্টি করছেন, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা নির্যাতন করেছেন, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেন’।
এমপি পংকজ নাথের অনুসারী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, কেন্দ্র ও জেলা থেকে নেতারা এসে কর্মসূচী করেছেন, স্থানীয় নেতা এমনকি সংসদকেও আমন্ত্রন করা হয়নি।
খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, সমাবেশে বক্তৃতা করা হয়েছে উদ্দেশ্যেপ্রনেদিভাবে। দল থেকে বহিস্কৃত ও বিএনপি নেতাকর্মীরা কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেছেন। খোরশেদ আলম বলেন, আমরাও খুব শিগগির জনসভা করে জানাবো কে কাকে অত্যাচার করেছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ালীগের আন্তর্জাতিক উপ কমিটির সদস্য ডা: শাম্মি আহমেদের অনুসারী সৈয়দ মনির বলেন, সমাবেশের আয়োজন করেছে মেহেন্দীগঞ্জ আওয়ামীলীগ। তারা কাকে আমন্ত্রন দিল বা দিলো না তা দেখার বিষয় না।
সমাবেশে অংশগ্রহনকারী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এখানে নৌকার লোকজনকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ সমাবেশের মাধ্যমে হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ আওয়ামীলীগ সন্ত্রাস-নৌরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে। যারা নৌকার বিরোধীতা করে তাদের কেন দাওয়াত দেয়া হবে?।
উল্লেখ্য, বরিশাল- ৪ সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগের দুইপক্ষে রক্তক্ষায়ী সংঘর্ষে চলতি বছরেই ৪ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। দ্ইু উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংসদ পংকজ নাথের পক্ষ ও বিপক্ষ দুটি গ্রুপ সক্রিয়। হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এবং ৮টি ইউনিয়নে এমপি অনুসারীা স্বতন্ত্র নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করেছে।নসা##
২০২১-১২-১৩
