আস্থাভাজনরা একে একে ত্যাগ করছেন এমপি পংকজ নাথকে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : মেঘনা তীরের জনপদ বরিশাল- ৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বিভক্ত আওয়ামীলীগে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা মেরুকরন। ২০১৪ সাল থেকে এখানে দাপুটে সাংসদ সদস্য (এমপি) পংকজ দেবনাথ। আগামী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তার পক্ষত্যাগ করে এমপি বিরোধী শিবিরে ভেড়ার হিড়িক পড়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে এমপি’র বিরোধী শিবিরে গেলেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মাহফুজুল আলম লিটন। গত কয়েকমাসে আরও কয়েকজন আস্থাভাজন নেতা এমপি’র পক্ষ ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সুত্র জানিয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান ২০০২-০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন খান। তিনিও স্থানীয় রাজনীতিতে সম্পৃৃত হতে আগামী ৩ জানুয়ারী শোডাউন করে মেহেন্দিগঞ্জে আসছেন।
দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামীলীগের কর্ণধার পাবত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষিন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) এবং জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লা এমপি’র সঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের বাসভবনে মঙ্গলবার দুপুরে সাক্ষাত করেন উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করা হয়। ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর নির্বাচনে এমপি পংকজের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রাথীকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লিটন।
মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ ও ঢাকা মহানগরের (দক্ষিণ) বিগত কমিটির সাধারন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর মেহেন্দিগঞ্জ ও ১৩ ডিসেম্বর হিজলায় বড় শোডাউন করেছে এমপি পংকজ বিরোধী নেতাকর্মীরা। ১৫ দিন পরই এমপির আস্থাভাজন মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাত করায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে পংকজনাথ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পযায় পর্যন্ত আওয়ামীলীগ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমপি বিরোধী গ্রুপটি জেলা আওয়ামীলীগ সমর্থক নামে পরিচিত। দুইপক্ষের রক্তক্ষায়ী সংঘর্ষে চলতি বছরেরই নিহত হয়েছেন ৪ জন। গত দুই মেয়াদে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এমপি অনুসারীরা নৌকা প্রতীক না পেলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ফলে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এ পর্যন্ত ৮টি ইউনিয়নে নৌকা পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছেন এমপি অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
আকস্মিক জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির সঙ্গে সাক্ষাতের কারন জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লিটন বলেন, ‘তিনি (হাসানাত) আমাদের অভিবাবক। দক্ষিণাঞ্চলে দলের শীর্ষ কর্ণধার। তার সঙ্গে আমি দেখা করতেই পারি, বিএনপির কোন নেতার কাছেতো আমি যাইনি’। এতবছর কেন যাননি জানতে চাইলে লিটন বলেন, করোনার কারনে নেতা (হাসানাত) ২ বছর যাবত বরিশালে আসেননি। তাই দেখাও হয়নি। মঙ্গলবার সাক্ষাতের পর ঢাকায অবস্থারত মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার এমপি পংকজ দেবনাথের তার যোগাযোগ হয়নি বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরে এমপি পংকজের আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা বিরোধী শিবির ভিড়েন। তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন- মেহেন্দিগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইদুর রহমান মনির, ও সোয়েব হোসেন সোহরাব, সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, লতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নেহাল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পারভেজ চাঁন।
্এমপি পংকজ বিরোধী বলয়ের নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম নেতা আওয়ামীলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য সৈয়দ মনির বলেন, এমপি পংকজ নাথের সন্ত্রাস ও দূর্ণীতিতে অতিষ্ট হয়ে সঙ্গী নেতারা তাকে ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। ফিরে আসা নেতাদের দলের হাইকমান্ড ক্ষমা করলে তারা দলের কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন।
অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন খান বলেন, “আমি ১৯৯১-৯৩ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলাম। দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলায় রাজনীতি করবো। কোন নেতার বিরুদ্ধে নয়, দলের নির্যাতিত কর্মীদের পাশে থাকবো”।
মেহেন্দিগঞ্জে এমপি পংকজনাথের প্রতিনিধিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলু। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামীলীগের একটি গোষ্ঠী রয়েছে যারা দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান, কিন্ত স্থানীয় দলীয় এমপি চান না। এতে তাদের লুটপাট ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্যে সুবিধা হয়। পংকজ নাথ এমপি হওয়ায় ওই গোষ্ঠীটি বাধাগ্রস্থ হওয়ায় তারা এমপির বিরোধীতায় নেমেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান লিটন সহ অন্যরা পক্ষ ত্যাগ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সুবিধাবাদী। এমপির সুবিধা ভোগ করা হয়েছে। এখন আরও সুবিধার আশঅয় নতুন জায়গায় গিয়েছেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *