নাগরিক রিপোর্ট : চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই হিজলা উপজেলা সংলগ্ন মেঘনার ভাঙ্গন প্রতিরোধে ‘নদী শাসন প্রকল্পে’র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবী করলেন মাওলানা জসিমউদ্দিন। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েষ্টান ইঞ্জিনিযারিং প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মকর্তাকে দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে। হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারে সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। মাওলানা জসিমউদ্দিন ধুলখোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
মারধরে আহত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার আসাদুল ইসলামকে (৫০) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওয়েষ্টান ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন গত ৮ জানুয়ারী তাকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে প্রতিঘন ফুট বালুর জন্য ২ টাকা, পাথরের জন্য ২ টাকা, প্রতিবস্তা সিমেন্টের জন্য ২ টাকা, প্রতিটি ব্লকের জন্য ৫ টাকা চাঁদা নির্ধারন করে দেন। চেয়ারম্যানের এ হিসাবে মোট দেড় কোটি টাকা চাঁদা দিতে বলেন তিনি।
কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি তিনি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এদিকে চাঁদা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান মাওলানা জসিম। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে তার ১০-১৫ জন সহযোগী প্রকল্পের ১৪ নম্বর পয়েন্টে গিয়ে দাযিত্বরত সুপারভাইজার আসাদুলকে বেদম মারধর করে। পরে তাকে টেনে হেচরে অদুরে চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রানাধীন একটি ক্লাব ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লাব ঘরেও আসাদুলকে বেদম মারধর করা হয়েছে।
প্রকৌশলী কামরুল বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে ১৬ নম্বর পয়েন্টে আগে থেকে অবস্থান করছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিব হোসেন। তিনি এ খবর শুনে ক্লাব ঘরে গিয়ে আসাদুলকে উদ্ধার করেন।
পাউবোর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, তিনি ক্লাব ঘরে পৌছার পর হামলাকারীরা সটকে পড়েন। তিনি আসাদুলের শরীরে নির্যাতনের চিহৃ দেখেছেন। আসাদুল কান্নাকাটি করে নির্যাতনের বর্ণনা দেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক মুঠোফোনে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। গতকাল সোমবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রকৌশলী রাকিব জানান, পাশাপশি দুই ইউনিয়ন মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া ও হিজলার ধুলখোলার ভাঙ্গনরোধে মেঘনা নদী শাসন প্রকল্পের কাজ চলছে। ধুলখোলার আলীগঞ্জ বাজার এলাকায় দেড় কিলোমিটার শাসনের জন্য প্রায় শতকোটি টাকার কাজ চলছে। সেখানেই ধুলখোলা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা চাঁদাদাবীর অভিযোগ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন, ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত জামাল ঢালীকে (সদ্য ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী) নিয়মিত চাঁদা দিয়ে আসছে। তিনি ওই চাঁদা বন্ধ করতে বলেছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সোমবার বিকালে মারধরের ঘটনার সময়ে তিনি হিজলা সদরে ছিলেন। আসাদুলকে মারধরের কারন তার জানা নেই।
গত ৮ জানুযারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী কামরুলকে ইউপি কার্যালয়ে ডেকে চাঁদার হার নির্ধারন করে দেয়ার প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিন বলেন, জামাল ঢালীর এক সহযোগী মিথ্যা তথ্য দিয়ে কামরুলকে ইউপি ভবনে পাঠায়। তাকে ডাকা হয়নি বলার পর কামরুল সেখান থেকে ুচলে আসে। এর বেশী কিছু হয়নি বলে দাবী চেয়ারম্যানের।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ঘটনার শিকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তিনি দাবী করেন, চেয়ারম্যান কাউকে মারেননি, অন্য লোক মেরেছে। তারা চেয়ারম্যানের লোক কি-না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবিষয় খোজ নিয়ে জানবেন।##
২০২২-০১-১৮
