নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীতে ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের বাইলেন অংশ দখল করে সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পার্ক নির্মানের বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। মহাসড়ক লাগোয়া জমি মালিক দাবীদার মনোয়ার হোসেন হাওলাদার মঙ্গলবার বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে মহাসড়কের জমিতে প্রায় একমাস যাবত পার্ক নির্মানের কর্মযজ্ঞ চললেও এখনও রহস্যজনক নিরাবতায় আছেন মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তারা বিষয়টি উর্ধ্বতন দপ্তরে জানিয়েছেন বলে দায় এড়াচ্ছেন।
আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, যেখানে পার্ক নির্মিত হচ্ছে তার পাশেই দেড় শতক জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিসিসির আদালতে মামলা চলছে। আদালত ২০১৯ সালের ২৯ আগষ্ট বিরোধীয় জমিতে স্থিতিবস্থা জারি করেছেন। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিসিসি গত ৬ জানুয়ারী ওই জমিতে মনোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠাসের স্থাপনা বুলড্রেজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে এবং জমিটি নির্মিত পার্কের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান বলেন, এ ঘটনায় বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারক রুবাইয়া আমিন আগামী ২০ জানুয়ারী আদেশের জন্য ধার্য্য করেছেন।
জমির মালিক দাবীদার মনোয়ার হোসেন জানান, মহাসড়ক ও তার জমি দখল করে পার্ক নির্মান করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশও মেয়র মানেন না। মনোয়ার বলেন, তিনি ভয়ে জমির কাছে যেতে পারছেন না। জমি ফিরে পেতে তিনি প্রয়োজনে উচ্চাদালতে যাবেন।
এদিকে বরিশাল সওজের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, সিঅ্যান্ডবি রোডে বিসিসি যেখানে পার্ক নির্মান করছে সেটি সওজের ঢাকা-কুয়াকাটা মহাড়কের জমি। পার্ক নির্মানের জন্য বিসিসি কোন অনুমতি নেয়নি। প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, তারা বিষয়টি সওজের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেখান থেকে কোন নির্দেশনা না আসায় তারা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, নগরীর সিঅ্যান্ডবি সড়কে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের লেকের উত্তর পাড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের বাইলেন অংশের প্রায় ২০০ গজ বিসিসির পার্ক নির্মান কাজ গত ৬ জানুয়ারী উদ্বোধন করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এই বাইলেন দিয়ে থ্রিহুইলার যানবহন চলাচল করতো। মেয়রের প্রয়াত মায়ের নামে ‘সাহান আরা আবদুল্লাহ পার্ক’ করা হবে বলে বিসিসি সুত্রে জানা গেছে।
সওজের কার্যসহকারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল নগরীর অংশে স্থানভেদে ১২০ থেকে ১৮০ ফুট অধিগ্রহন করা জমি রয়েছে। তারমধ্যে মুল মহাসড়ক ২৪ ফুট। অবশিষ্ট জমিতে বাইলেন ও ফুটপথ। পদ্মাসেতু চালুর পর ১২০ ফুট চারলেন মহাসড়ক উন্নীত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। চারলেনের নির্ধারিত জমিতে বিসিসি পার্ক নির্মান করছে।
যদিও বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন বরাবরই দাবী করে আসছেন, সওজের অনুমতি নিয়েই পার্ক নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা কিম্বা আদালতের স্থিতিবস্থার বিষয়ে বিসিসি কিছুই জানে না বলে দাবী প্রধান নির্বাহীর।
২০২২-০২-০৩
