বরিশালে ফলাফলের ভারে মেধার মুল্যয়ন নিয়ে প্রশ্ন

Spread the love

খান রফিক:
উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষায় বরিশালে এবার পাশের হার এবং জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি পড়েছে। বিগত বছরগুলোর সকল রেকর্ড ভেঙ্গে এবার পাশের হার ৯৬ ভাগে ছুইছুই করছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে রেকর্ড সংখ্যক ৯ হাজার ৯৭১ জন। ফলাফলের এই ভার বহন করে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার কতটা সুযোগ পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবার জিপিএ এর ছড়াছড়িতে প্রকৃত মেধাবীরা ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন বলেছেন, পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, করোনাকালীন অটোপাশের কারনে ২০২০ সালে শতভাগই ছিল পাশ। কিন্তু ২০১৯ সালে পাশের হার ছিল ৭০.৬৫ ভাগ। ওই সময়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ২০১জন। অথচ এবার এ বোর্ডে পাশের হার যেমন অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে, তেমনি জিপিএ-৫ বেড়ে দাড়িয়েছে ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৮ গুন বেশি।

বরিশাল বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ এস এম কাইউম উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনার কারনে এবার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সহায়ক মনভাব দেখানো হয়েছে। ফলাফল দিতে পাড়াটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, বেশি সংখ্যক পাশ করলেও দেশে অনার্স পাঠদানের বহু কলেজ রয়েছে। তার কলেজেই অনার্সে আসন ৫ হাজার ২৫০টি।
যদিও জানা গেছে, বিএম কলেজে এবার উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে ৯৬ ভাগ পরীক্ষার্থী।

এদের অনেকের অভিভাবকরা সন্তান উচ্চ শিক্ষায় ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন কি না তা নিয়ে শংকিত। নগরের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক গতকাল কন্যাকে নিয়ে কলেজে এসে জানান, এবার জিপিএ-৫ এর হিড়িক পড়েছে। কিভাবে তার সন্তানকে উচ্চশিক্ষার জন্য ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

বরিশালের উচ্চ শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপিঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। ববি’র শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো: খোরশেদ আলম বলেন, এবার করোনার কারনে পরীক্ষা পূর্নাঙ্গ সেলেবাসে হয়নি। হয়তো তাই পরীক্ষকরা এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার যাচাই হোক এটাই কাম্য। প্রকৃত মেধাবীরাই তাদের যোগ্যতায় সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য সুযোগ পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা সুযোগ পাবে না।

তিনি উদাহরন হিসেবে বলেন, ৯৬ সালে তার উচ্চমাধ্যমিক ফলাফলে পাশের হার ছিল মাত্র ১৭ ভাগ। তাই বলা যায় ফলাফল দিয়ে মেধার বিচার করা কঠিন। তিনি মনে করেন, মেধার মুল্যয়নের পদ্ধতিটা নতুন করে ভাবা দরকার। তা নাহলে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকৃত মেধাবী হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম থেকেই শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। এজন্য গ্রামগঞ্জে শিক্ষকদের যথেস্ট প্রশিক্ষন দেয়া দরকার। কেন না এক সময় শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুর রহমান ঝান্ডা বলেন, এবার মেধার কি যাচাই হয়েছে। মুল বিষয় বাংলা ও ইংরেজী পরীক্ষাই তো হয়নি। কেবল গ্রæপ সাবজেক্ট এ পরীক্ষা হয়েছে। প্রশ্নপত্রও হয়েছে সহজ। এ থেকে মেধার মুল্যয়ন করা কঠিন।

প্রকৃতপক্ষে এমন বিশাল ফলাফলের নামে শিক্ষা ব্যাবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এধরনের ফলাফলে প্রকৃত মেধাবীরা বিপাকে পড়বে। কারন জিপিএ যাদের বেশি তারাই ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ পাবে। তিনি জানতে চান ‘এতো জিপিএ দিয়ে কি হবে?’

সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্বাস উদ্দিন বলেন, ফলাফলে নয়, মেধার মুল্যয়ন ও বিকাশ অন্যভাবে করতে হবে। শ্রেনী কক্ষে স্বশরীরে পাঠদানের সংখ্যা বৃদ্ধি করে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার উপরই তিনি জোর দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *