কে.এম.সি ক্লিনিক: চিকিৎসাকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরে খাজা মাঈনউদ্দিন কমপ্লেক্স (কে.এম.সি) নামক একটি ক্লিনিকে রোগীর মৃতুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত নারী নুর নাহার বেগমের (৬৫) স্বজনরা এমন অভিযোগ করে বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচারন ছিল অমানবিক। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় ক্লিনিকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু ঘটে। তার আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিউরো মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. অমিতাভ সরকারের তত্ত¡াবধানে নুর নাহার বেগমকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল।

রোগীর মৃত্যুর পর গভীর রাত পর্যন্ত ওই ক্লিনিকে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাৎক্ষনিক আত্মগোপনে ছিলেন। ৯৯৯ এ কল দেয়া হলে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি দল রাতে ক্লিনিকে যান। নুর নাহার বেগম পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের নুর মোহম্মদ হাওলাদার স্ত্রী।

নুর নাহার বেগমের জামাতা আমিনুল ইসলাম জানান, মস্তিস্ক সমস্যায় তার শ্বাশুরী নুর নাহার বেগম অসুস্থ্য ছিলেন। সোমবার বিকালে নগরীর সদর রোড বেলভিউ ডায়গণষ্টিক সেন্টারে ডা. অমিতাভ সরকারের ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে তাকে কেএমসি ক্লিনিকে ভর্তি করতে বলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নুর নাহারকে সন্ধ্যর পর বাজার রোড কেএমসি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়।

আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ক্লিনিকে নেয়ার পর তাকে খাবার স্যালাইন দেয়া হলে রোগী কিছুটা সুস্থ হন। এক সেবিকা রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নুরজাহান বেগমকে ৩ মিনিট সময় নিয়ে একটি স্যালাইন পুশ করেন। এরপর থেকেই তিনি যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকেন। রাত পৌনে একটার দিকে চিকিৎসকের পরামর্শে সেবিকা রোগীর মুখে ওষুধ দিলে কিছুক্ষন পরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ঘন্টাখানেক রোগী ছটফট করলেও ক্লিনিকের ডিউটি চিকিৎসক তার কক্ষ থেকে বের হননি। তার কাছে গেলে তিনি রোগীর ভিডিও করে নিয়ে আসতে বলেন। তার পরমর্শেই সেবিকা রোগীকে একের পর এক ওষুধ প্রয়োগ করতে থাকে। তার শাশুড়ির মৃত্যুর পর গভীর রাতে হাসপাতালের সব স্টাফ উধাও হয়ে যায়। নুন্যতম সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডা. অমিতাভ সরকারের মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে কেএমসি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. রাফাত জানান, নুর নাহার নামক রোগীর মানসিক সমস্যা ছিল। পরীক্ষানীরিক্ষায় তার মস্তিস্কে ইনফেকশন ধরা পড়ে। ডা. অমিতাভের তত্ত¡াবধানে তাকে রাতে ক্লিনিকে ভর্তি ভর্তি করা হয়। ডা. রাফাত দাবী করেন, ডা. অমিতাভের ব্যাবস্থাপত্র অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তাকে সর্বাত্মক চিকিৎসা দেয়ার পরও বাঁচানো যায়নি। সংকটাপন্ন অবস্থায় রোগীর কক্ষে চিকিৎসক না আসার অভিযোগ অস্বীকার করেন ডা. রাফাত।

এব্যপারে বরিশাল কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিমুল করীম বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে রাত ৩টার দিকে পুলিশের একটি দল বাজার রোড কেএমসি ক্লিনিকে গিয়েছিল। মৃত এক নারীর স্বজনরা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন যে ক্লিনিকের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসকায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা লিখিত কোন অভিযোগ দেয়নি। সকালে স্বজনরা লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *