নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরসহ গোটা জেলায় ৪০০ সিএনজি চলাচলের জন্য এক বছর আগে রুট পারমিট দিয়েছে বিআরটিএ। টানা ৬ মাস গ্যাস চালিত এ সিএনজিগুলো বিনা বাধায় চলাচল করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বাস মালিকদের বাধায় রুটপারমিট পাওয়া সিএনজিগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বৈধ এ যানগুলো এখন কোথায় চলবে তার কোন জবাব কেউ দিচ্ছে না। যেকারনে ৪ শতাধিক সিএনজি চালক ও শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ অবস্থায় সড়কে সিএনজি চলাচলের দাবীতে সোমবার নগরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপিও দিয়েছে বরিশাল সিএনজি চালক-শ্রমিক ইউনিয়ন। চালকরা দাবী করেছেন, এর আগে তাদের ১৫০০ টাকা করে বিট মানি দিয়ে চলতে হয়েছে। এখন পুলিশ ও থ্রি হুইলার মালিক সমিতিই তাদের পথের কাটা হয়ে দাড়িয়েছে।
জেলা সিএনজি চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, এক বছর আগে তাদের এই ৪০০ সিএনজি রুটপারমিট পায়। এরপর থেকে বরিশাল সিটি থেকে শুরু করে জেলার সব রুটে সিএনজি চলতো। কিন্তু গত ৫-৬ মাস আগে হঠাৎ করে মেট্রো পুলিশ নগরে চলাচল বন্ধ করে দেয়। জেলা শহরে চলাচলেও বাস মালিকরা বাধা দেয়। একটি বৈধ সিএনজির পেছনে প্রায় ৫ লাখ টাকা পুজি খাটিয়ে এখন মাসের পর মাস ঘরে ফেলে রাখতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, গতকাল তারা সিএনজি চলাচলের অনুমতি চেয়ে নগরে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন। মেট্রো পলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (সদর) বলেছেন বিষয়টি সভায় উত্থাপন করবেন। হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, কিছুদিন কেউ সাংবাদিক, কেউ পুলিশকে কিংবা কেউ থ্রি হুইলার মালিক সমিতিকে বিট দিয়ে চলতো। এখন আর কিছুই করা যাচ্ছে না।
বিক্ষোভে আসা সিএনজি চালক আরাফাত, সোহান বলেন, শুরুতে ১৫০০ টাকা করে বিট মানি দেয়া হতো। এখন আরও বেশি চায়। এ নিয়ে মালিক সমিতর সঙ্গে ঝামেলা দেখা দিয়েছে। কিন্তু তারা তো পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তবে বরিশাল জেলা থ্রি হুইলার মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক দুলাল হোসেন বলেন, বরিশাল-থ সিরিয়ালের এই সিএনজিগুলোকে হাইওয়ে এবং মেট্রো এলাকা ব্যাতিত জেলা সড়কে চলাচলের পারমিট দেয়া হয়েছে। বেশ কিছুদিন জেলা শহরে এমনকি নগরেও চলেছে এগুলো। কোন একটি কারনে এগুলো চলাচল বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এখন তারা বাসদের মনিষাকে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ট্রাফিক বিভাগও তাই আইন দেখাচ্ছে। সিএনজি চালকারা থ্রি হুইলার মালিক সমিতিকে কেন দুষছেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে কোন ঝামেলা নেই। প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা বিট মানি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন সিএনজি চালক কি এটা বলতে পারবে?
জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, আরটিসি সভায় বরিশাল জেলাপ্রশাসক ৬০০ সিএনজি জেলা শহরে চলাচলের জন্য রুটপারমিট দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুরুতে বরিশাল-থ সিরিজের সিএনজির সংখ্যা কম থাকায় মেট্রো এলাকা অতিক্রিম করতে পারতো। কিন্তু এখন থ্রি হুইলারের চাপ বাড়ায় ওই ৪০০ সিএনজি চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না।
বাসদের বরিশাল জেলা সদস্য সচিব এবং জেলা সিএনজি চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন, বিআরটিএ থেকে জেলা পর্যায়ে চলাচলের জন্য ৪০০ সিএনজির রুট পারমিট দেয়া হয়েছে। গত ৫ মাস ধরে জেলা, মেট্রো কোথাও চলতে পারছে না এসব সিএনজি। গ্যাস রিফিল করার জন্য যে মেট্রোতে ঢুকবে তাতেও ট্রাফিক পুলিশ বাধা দেয়। মানবেতর জীবনযাপন করছে ওই সব সিএনজি চালক ও শ্রমকিরা। তিনি বলেন, বৈধ এসব সিএনজি’র চালক ও শ্রমকিরা যাবে কোথায়? এই সিএনজির সঙ্গে সম্পৃক্ত চালকদের জীবনজিবীকার নিশ্চয়তা করার দাবী জানান মনিষা।
এব্যপারে বিআরটিএ’র বরিশালের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাজী সামছুল হক বলেন, বরিশাল-থ নাম্বারের সিএনজির রুট পারমিট তারা দিয়েছেন। এসব সিএনজি হাইওয়ে ব্যাতিত চলতে পারবে। কেন ৫ মাস ধরে চলাচল বন্ধ সে বিষয়ে থ্রি হুইলার মালিক সমিতিও তাদের অবহিত করেনি। সিএনজি চালকরা সুনির্দিস্ট অভিযোগ নিয়ে আসলে তারা ব্যবস্থা নিবেন।
