সৈয়দ জুয়েল : আয়ারল্যান্ডের বাংলাদেশি স্কুলগুলো থেকে বাংলা শেখার কোন সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। এর কারন একাধিক। এখানে বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক কম থাকা ও সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে বাংলদেশিদের কেউ না থাকাটাই মূল কারন। এজন্যেই মূলতঃ গড়ে ওঠেনি কোন বাংলা স্কুল। সঙ্গত কারনেই তাই এখানে বেড়ে ওঠা আইরিশ বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরা বাংলা ভাষা শেখা থেকে অনেক পিছিয়ে। ঘরে বাবা,মা যতটুকু শিক্ষা দেন,তাতেই তৃপ্ত হতে হতো অনেকটা নিরুপায় হয়েই। তবে শেষ দুই বছরে একটু হলেও এখানে পরিবর্তন এসেছে।
২০২০ এর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডে অন লাইন ভিত্তিক বাংলা শেখার ক্লাস চালু করে বাংলা পাঠশালা। শুরুর এক বছরে ফ্রি পাঠদান শুরু করে দু’জন শিক্ষিকা। পরবর্তীতে একজন শিক্ষিকা কর্মক্ষেত্রে ব্যাস্ত হয়ে পরায়,ইচ্ছে থাকলেও ক্লাস নিতে পারেননি। তবে তিনি যত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়িয়েছেন,তার জন্য এখানের বাংলাদেশিরা তাকে স্নরন করবেন কৃতজ্ঞচিত্তে।
পরবর্তীতে গলওয়ের লুৎফুন্নাহার হোসেন (শিক্ষিকা)একাই চালিয়ে যান পাঠদান। এরপরেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। আর এ সময়টায় অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও পরিবর্তন আসে শিক্ষা ব্যাবস্থায়। অনলাইনেই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শেখানো হতো শিক্ষকদের। তবে এ থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পরে সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। এ সময়ে অর্থের অভাবে অনেক অসহায় পরিবার অর্থ ব্যায় করে ইন্টারনেট খরচ চালাতে না পারায়-অনেকের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর দেশের মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পরে। চোখ এড়ায়নি লুৎফুন্নাহার হোসেনেরও।
সুবিধা বঞ্চিতরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়,সে জন্য ২০২১ এর জুন থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ফি নির্ধারন করেন। যার ৭৫ শতাংশ টাকাই দেশের গরীব,অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দেন। যার মাঝে এস,এস,সি পরীক্ষার্থীদের বই কিনে দেয়া,ফরম ফিলাপ,রেজিষ্ট্রেশন ফি,ইন্টারনেট খরচ থেকে শুরু করে পড়ালেখার যাবতীয় খরচ অন্যতম। আয়ের বাকী ২৫ শতাংশ এখানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা আয়োজনে খরচ করেন এই শিক্ষিকা।
এ বিষয়ে বাংলা পাঠশালার শিক্ষিকা লুৎফুন্নাহার হোসেন ডেইলি নাগরিককে জানান- করোনাকালীন সময়ে অনেক শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার খবরে এ উদ্যোগটি তিনি নিয়েছেন। তার মাধ্যমে যদি দশজন শিক্ষার্থীও উপকৃত হয়,এটি-ই তার প্রাপ্তি। আর আয়ারল্যান্ডে যেহেতু সবাই স্বচ্ছল,তাই যে ফি নেয়া হয়,এটি সবার বেলায় দেয়া খুবই সম্ভব। আর এ অর্থের পুরো অংশ এ কাজেই খরচ করি। নিজের ব্যাক্তিগত কোন কাজে শিক্ষাদানের কোন অর্থ তিনি খরচ করেননা বলেও জানান তিনি।
ইতিমধ্যে বাংলা পাঠশালায় শিক্ষা নিয়ে অনেক আইরিশ বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরা, যারা আগে বাংলা পড়তে ও লিখতে জানতোনা,তারাও এখন ভালো লিখতে ও পড়তে পারছেন। জানতে পারছে বাংলাদেশের ইতিহাস সংস্কৃতি। শীঘ্রই এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলা বিষয়ক এক অনুস্ঠানের আয়োজন করবেন বলে জানান লুৎফুন্নাহার হোসেন। বাংলাদেশিদের জন্য বাংলা ভাষা এক অহংকার। পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি,যারা ভাষার জন্য অকাতরে প্রান বিলিয়ে দিয়েছেন।৷ সেই বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য বাংলা পাঠশালা ও একজন লুৎফুন্নাহার আরো এগিয়ে যাবে,এটিই প্রত্যাশা।
