খান রফিক:
প্রতীক পেয়ে মেঘনা পাড়ে প্রচারনা শুরু করেছেন ৩৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা এর মাধ্যমে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ও হিজলার দুইটি ইউনিয়নে ভোট যুদ্ধে নেমে পড়লেন। গতকাল শুক্রবার উৎসবমুখোর পরিবেশে প্রতিক গ্রহন করেন প্রার্থীরা। যদিও এ ভোট যুদ্ধ হবে নৌকার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। সহিংসতাপূর্ন এ দুই উপজেলায় নানা সংশয় থাকায় প্রশাসন আগেভাগেই হুশিয়ারী করেছেন প্রার্থীদের। এদিকে বৃষ্টিতে ব্যাহত হলেও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা গনসংযোগ করেছেন।
গত ১৯ মে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলা বলেন, আপনারা অনেকেই প্রতীক নেয়ার আগেই আচারনবিধি লংঘন করে সোডাউন দিয়েছেন। এখন এন্ড্রয়েড মোবাইলের যুগ। চিন্তাই করতে পারবেন না যে, আপনারা ঝামেলা করছেন আর পাশে ভিডিও হচ্ছে। এমনটা করলে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ওসি বলেন, নির্বাচন হবে উৎসবমুখোর। আমাদের কোন মত নেই, দল নেই। সকলেই আমাদের পক্ষে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: নুরুন্নবী বলেন, আপনি কিন্তু আচারনবিধির আওতায় ভোটে অংশ নিতে হবে। আপনারা আগামী ১৫ তাং পর্যন্ত এটি । আপনি সব কিছু করলেও আচারনবিধি লংঘন করলে নির্বাচিত হয়েও চেয়ারে বসতে পারবেন না।
মেহেন্দীগঞ্জের ৬টি ইউনিয়নেই বাছাই এবং প্রত্যাহার শেষে একাধীক বিদ্রোহী প্রার্থী দাড়িয়ে গেছে নৌকার বিপক্ষে। গতকাল তারা প্রতিকও সংগ্রহ করেছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিতে ক্ষমতাসীনরা প্রচেস্টা চালালেও মাঠ ছাড়ছেন না বিদ্রোহীরা।
গবিন্দপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বেল্লাল মোল্লা। এখনকার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আলীগের সহ সভাপতি মহিউদ্দিন তালুকদার গতকাল আনারস প্রতীক পেয়েই মাঠে নেমেছেন। তিনি জানান, নৌকার সমর্থকরা হুমকী ধামকি দিচ্ছে। তিনি এই নদী ভাঙ্গলী এলাকায় চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসতী স্থাপন করেছেন। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী বেল্লাল মোল্লার ভাই জামাল মোল্লা গতকাল প্রতিক গ্রহন করে এলাকায় গনসংযোগ করেছেন।
বিদ্যানন্দপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী জব্বার খান প্রতিক পেয়ে গনসংযোগ শুরু করেছেন। অপরদিক বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন শাহে আলম মীর। এ ইউনিয়নে নৌকার বিরুদ্ধে কঠিন প্রার্থী হয়ে দাড়াচ্ছেন শাহে আলম।
আন্ধারমানিক ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিন কবিরাজ। এ ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলাম প্রচারনা শুরু করেছেন। অপর বিদ্রোহী চশমা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন খোকন গতকাল থেকেই প্রচারনায় নেমেছেন এলাকায়। তিনি গতবার নৌকার প্রার্থী ছিলেন। প্রার্থী খোকন বলেন, এবারও তিনি নৌকার দাবীদার ছিলেন। কিন্তু না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
উপজেলার জয়নাগর ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬জন। এখানে নৌকার প্রার্থী সেকেন্দার আলী আবু জাফর। তিনি গতকাল প্রতিক নিয়ে জনসংযোগ শুরু করেছেন। অবশ্য বিদ্রোহী প্রার্থী চশমা প্রতীকে মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, ভোটের পরিবেশ কেমন আছে তা জনগন বলবেন। পরিবেশ তো তৈরী করে নিতে হবে।
এদিকে হিজলা উপজেলার হিজলা-ধুলখোলা ইউনিয়নে নৌকার প্রতিক পেয়ে গতকাল বিকেলে এলাকাবাসীর কাছে ছোটা শুরু করেছেন জসীম উদ্দীন। অপরদিকে গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী জামাল ঢালী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তিনি বলেন, তার ভাই-ভাগিনার খুনীদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে এবারও প্রার্থী হয়েছেন।
হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম মিলনের প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মো: ফিরোজ হোসেন ঘোড়া প্রতীকে এবং জাহাঙ্গির মুন্সী আনারস প্রতীকে গতকাল থেকে প্রচারনা শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে নৌকার প্রার্থী মিলন জানান, গতকাল বিকেলে একতা বাজার থেকে প্রচারনা শুরু করেছেন তিনি। জনগনের ভোটে এবারও নির্বাচিত হবেন বলে আশা তার। এ ইউনিয়নে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা মাইন উদ্দীন প্রথম দিন থেকেই জনগনের দ্বারে ছুটছেন।
মেহেন্দীগঞ্জ রিটার্নিং কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম এবং হিজলা রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকেই আজারনবিধি বজায় রেখে প্রচারনা করতে পারনে। আগামী ১৫ জুন হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের ৮ ইউপিতে নির্বাচন।
