নিস্ক্রিয় আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগ সক্রিয় হবে!

Spread the love
সৈয়দ জুয়েল।। সমন্বয়হীনতায় ভুগছে আয়ারল্যান্ড আওয়ামিলীগ। দলীয় কোন কর্মসূচি নেই সেই ২০১৯ থেকে। এর আগে কিছু কিছু অনুস্ঠানাদি হলেও আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পর দলটির কার্যক্রম পুরোই যাদুঘরে। বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস,বিজয় দিবস,একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে শেষ পদ্না সেতুর মত বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটির কোন আয়োজনের চেষ্টাও ছিলনা দলটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের।
দলটির বিভক্তির মাঝে ২০১৯ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ইউরোপ আওয়ামীলেগের সভাপতি নজরুল ইসলাম- আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এক সভায় হাজির হয়ে নানা আলোচনা শেষে দুই বিবদমান গ্রুপের ভেতর থেকে একজনকে আহ্বায়ক ও
অপরজনকে সদস্য সচিব ঘোষনা করেন। এতে কোন্দল না কমে বরং বেড়েছে। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও সঠিক ছিলোনা বলে অনেক আওয়ামিলীগ নেতা কর্মীর অভিযোগ। ইউরোপ আওয়ামিলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামের ঘোষনার সেপ্টেম্বরের আট তারিখ থেকে মার্চের আট তারিখ,এই ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এর মাঝে সন্মেলনের কোন প্রস্তুতি বা আগ্রহ ছিলোনা ঐ আহবায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের। অথচঃ নজরুল ইসলামের সোজা সাপ্টা ঘোষনা ছিলো-এই আহ্বায়ক কমিটি ছয় মাসের মধ্যে কমিটি গঠন না করতে পারলে আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তার ঘোষনার একটি জায়গা উল্লেখ ছিলো,যদি প্রাকৃতিক বা অন্য কোন দূর্যোগ না থাকে। অনেকে আবার বলে থাকেন,করোনা না থাকলে এতদিনে সন্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হত। তবে এখানেও রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। করোনা আসার আগেই ছয়মাসের যে মেয়াদকাল,তা শেষ হয়েছিলো। ঐ সময়ের মধ্যে কেন সন্মলন করেনি আহবায়ক কমিটি! প্রশ্ন কর্মীদের। আবার করোনার বিধি নিষেধ শেষ হয়েছে,তা-ও কয়েক মাস হয়ে গেলো,এখনও সন্মেলন বিষয়ে কোন আলোচনার আয়োজনও করেনি তথাকথিত আহবায়ক কমিটি।
তাহলে কি শর্ষের ভেতরই ভূত! আবার আহবায়ক ও সদস্য সচিবের পদবী এখনো দিব্যি ব্যাবহার করে চলছেন তারা। যে কমিটি এমনিতেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে,সে কমিটির এই পদবী ব্যাবহার করার কোন এখতিয়ার থাকেনা। এ বিষয়ে বেশ কিছু আওয়ামিলীগ নেতা কর্মীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন- পদবী ব্যাবহার করার কারনে তারা সন্মেলন করা থেকে পিছিয়ে গেছে। তারা যদি পদবী ব্যাবহার না করতো,তাহলে কমিটি নিয়ে ভাবতো। তবে যেহেতু আহ্বায়ক কমিটি এমনিতেই বিলুপ্ত,সেখানে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বলেও কিছু নেই।
আয়ারল্যান্ড আওয়ামিলীগের কেন এই ভগ্নদশা! রোগে,শোকে কেন এত দূর্বল হলো! উত্তর খুঁজে বের করা কঠিন নয়। এখানের আওয়ামিলীগের মাঝে অনেক প্রতিভাবান পোড় খাওয়া নেতা কর্মী রয়েছেন,যারা এ সংগঠনটিকে শক্তিশালী করার যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু তাদের বড় একটি অংশ উপেক্ষিত। যোগ্য লোকরা যোগ্য পদে নেই বলে এ করুন হাল। এ আহবায়ক কমিটির সদস্যদের মাঝেও অনেক অভিজ্ঞ লোক রয়েছেন,তারাও নিস্ক্রিয়,কারন যে কোন সভা,সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব বর্তায় আহবায়ক ও সদস্য সচিবের। এ দু’জন এতটাই ব্যার্থ যে প্রায় তিন বছরে সব আওয়ামিলীগ কর্মীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করতে পারেনি। সন্মেলন তো সোনার হরিন বলেই মনে হয় এদের কাছ থেকে। যে আহবায়ক কমিটি সবার সাথে আলোচনা করে দেয়ার কথা ছিলো ইউরোপ আওয়ামিলীগের সভাপতির,সেটি না করে ফেসবুক পোষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলো তিনি। এটিও মেনে নিতে পারেনি এখানের আওয়ামিলীগের বৃহৎ অংশ।
বর্তমান আয়ারল্যান্ড আওয়ামিলীগ আছে শুধু ফেসবুক পোষ্টে। কার্যতঃ পুরোটাই নিস্ক্রিয়। এভাবে যদি কমিটি বিহীন চলে নামকাওয়াস্তে আহবায়ক দ্বারা,তাহলে অচিরেই দূরবীন দিয়েও দেখা যাবেনা এ সংগঠনের কার্যক্রম। কিভাবে আয়ারল্যান্ড আওয়ামিলীগকে শক্তিশালী করা যায়? প্রশ্ন ছিলো অনেক নেতা কর্মীদের কাছে। তাদের মাঝে রফিক খাঁন,জসিম উদ্দিন আহমেদ,ফিরোজ হোসেন বলেন-
সবার মতামত ও সবাইকে নিয়ে সন্মেলনের মাধ্যমে এমন একটি কমিটি গঠন করতে হবে,যেখানে ত্যাগী,অভিজ্ঞ,সংগঠনকে ভালবাসা কর্মীরা স্থান পায়,সাথে বিভক্ত ভুলে সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করলেই সংগঠনটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেও মত তাদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কিছু প্রবীন ও নবীন আওয়ামিলীগ কর্মীরা আগামী দিনের সন্মেলন কখন হবে,বা আদৌ হবে কি না,তা নিয়ে তারা যথেষ্ট সন্দিহান।
তাদের যুক্তি- কে হবেন আগামীর সভাপতি! এ নিয়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিজেরাই উদ্বিগ্ন। কারন এদের কেউই সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে নেই। এদের নিজশ্ব কিছু বলয় থাকলেও নিশ্চিত করে সভাপতি হওয়ার ভোট কারোরই নেই। তাই সন্মেলন করার মত সাহস তারা আদৌ  পাবেন কি-না,সেটিও একটি প্রশ্ন বলে মত তাদের। নিস্ক্রিয় আয়ারল্যান্ড আওয়ামিলীগকে সক্রিয় করতে সব কর্মীদের নিয়ে আলোচনার কোন বিকল্প নেই। একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন হয় অভিজ্ঞ কর্মীদের দ্বারা। সব বিভক্তি এড়িয়ে আয়ারল্যান্ড আওয়ামিলীগ সে পথেই হাঁটবে,এ বিশ্বাস এখানের ত্যাগী কর্মীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *